অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবেঃ ড. আতিউর

0


Published : ২৩.০১.২০১৯ ০৮:৪০ পূর্বাহ্ণ BdST Updated : ২৪.০১.২০১৯ ১২:০৮ অপরাহ্ণ BdST

“বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন অভিযাত্রার যে গল্প তার পুরোটা এখনও শেষ হয়নি। এখন আমাদের দেশ দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনের মতো বড় বড় লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলেই কেবল এ লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে।”- ব্যাংককের হোটেল আমারি, ওয়াটার ফ্রন্টে আয়োজিত এশিয়ান ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ফোরামে বক্তৃতা কালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারি, ব্যাংকার ও ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচকদের মধ্যে ছিলেন- বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ব্যাংকারস-এর সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, বিইইএস-এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং সিডিএফ-এর নির্বাহী  পরিচালক আব্দুল আউয়াল।


ড. আতিউর প্রথমে তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি কেমন হবে এবং তা আর্থিক সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে, ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের উৎস হিসেবে কাজ করে অর্থায়ন বিষয়ে উদ্যোক্তাদের মূল্যবান পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতে পারে। কয়েক বছর আগে দেশের ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কৃষি ঋণ হিসেবে দেয়ার বিধান চালু করা এবং নতুন করে কৃষি ঋণের সংজ্ঞা নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সময়োচিত উদ্যোগ নিয়েছিলো তার ফলে দেশের ব্যাংকগুলো এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকরি সংস্থাগুলোর মধ্যে খুবই কার্যকর একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যে সমস্ত ব্যাংকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখা নেই বা কম শাখা রয়েছে তারা এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে বলে মনে করেন ড. আতিউর। এছাড়াও এর ফলে দেশের কৃষি খাতের বিকাশের জন্য অর্থের সরবরাহ বেড়েছে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার ঘটানোর যে উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়েছিলো তা জোরদার হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এ ধরণের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম হয়েছে সেগুলোর ফলেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার সামর্থ দেখাতে পেরেছে।

“উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যখন কেবল বড় বড় আর্থিক সেবাদানকরি প্রতিষ্ঠানকে বেইল আউট সুবিধা দেয়া হচ্ছিল সে সময় আমরা ধীর গতিতে আমাদের গ্রামীন কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে মজবুত করতে অর্থায়ন করেছি।”- বলেন ড. আতিউর। এর ফলেই বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এ মূহুর্তে যে দ্রুতগামী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তা অব্যাহত রাখতে আরও সম্পদ প্রয়োজন। এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া বিদেশি বিনিয়োগকারিদের জন্য সোনার খনির সন্ধান পাওয়ার মতো হবে বলে মনে করেন ড. আতিউর। গত কয়েক মেয়াদে সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে তা দেশ ও দেশের বাইরের বিনিয়োগকারিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং উদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ খাতে বিদেশি বিনিয়োগে সহায়ক হবে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারিদের প্রয়োজনিয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ড. আতিউর। আগামীকাল বাংলাদেশে বিরাজমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিষয়ে আলাপচারিতার জন্য তিনি বিদেশী বিনিয়োগকারিদের একটি দল (যাদের মধ্যে সিংহ ভাগই ইউরোপিয়)-এর সাথে সম্মেলন স্থলেই আরেকটি বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।

 

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here