অ্যালামনাই উপপাদ্য

0


Published : ১৮.০২.২০১৯ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ BdST

মিনহাজুল ইসলাম


অ্যালামনাই (Alumni) শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘প্রাক্তন’ এবং এসোসিয়েশন (Association) শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘সংঘ’। “অ্যালামনাই এসোসিয়েশন” এর সম্পূর্ণ অর্থ হচ্ছে “প্রাক্তন সংঘ”। স্কুল, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অধ্যয়ন শেষ করা শিক্ষার্থীদেরকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলা হয়। ঐ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং প্রতিষ্ঠানের লিখিত অনুমতিতে গড়ে তোলা হয়, ‘প্রাক্তন সংঘ’। আর এই সংঘ পরিচালনার জন্য থাকে নির্দিষ্ট একটি ‘প্রাক্তন পরিষদ’। এই ‘প্রাক্তন পরিষদ’ তৈরি করা হয় সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মতামতের উপর ভিত্তি করে। 


বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘চট্টগ্রাম’ একটি অতি পরিচিত শহর আর চট্টগ্রামবাসির কাছে ‘চান্দগাঁও’ সুপরিচিত একটি এলাকা। বর্তমানে সেই চান্দগাঁও-তে প্রসিদ্ধ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে “সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ”। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। প্রতিষ্ঠানটি নানান বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলার পর, ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের অনুমতিতে এ প্রতিষ্ঠানের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় “সিপিএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন” নামে একটি প্রাক্তন সংঘ গড়ে তোলা হয়।

সচরাচর আমরা যারা এই ধরনের এসোসিয়েশন বা সংঘ এর সাথে যুক্ত নই,  তাদের এই ধরনের সংঘ এর সম্পর্কে জ্ঞান নেই বললেই চলে। নতুন কোনো ব্যক্তি যখন এমন সংঘ সম্পর্কে নানান জন থেকে নানানভাবে শুনে তখন তার মনে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জনের মনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নও জেগে উঠে। যেমন:

কেন এই সংঘ তৈরি?

এই সংঘের উদ্দেশ্য কি?

 আমার বা এইটার কেন প্রয়োজন?

কি লাভ এইটার সঙ্গে থেকে?

এমন অনেক প্রশ্ন উঠে আসে আমাদের মনে যা আমরা হয়ত কারো সাথে পরামর্শের মাধ্যমে জানার চেষ্টাও করি না আবার জানার চেষ্টা করলেও এমন কিছু মানুষ থেকে জানার চেষ্টা করি যারা কখনো এমন সংঘের সাথে যুক্ত ছিল না। তাই আমাদের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমরা পাই না যার ফলে আমরা এমন সংঘের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে দ্বিধা বোধ করি।

যারা যে প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে তাদের নিজ ব্যক্তিগত, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসের চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে প্রতিটি দেয়ালে তাদের নানান স্মৃতি জমাট বাঁধে। অধ্যয়ন করা প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার পরও আমাদের প্রত্যেকের মনে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মায়ামমতা, ভালবাসা ও শ্রদ্ধা কাজ করে। প্রত্যেকেরই ইচ্ছা করে ফিরে যেতে পুরানো সময়ে, যদিও জানা থাকে যা কখনো সম্ভব নয়। তবে প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ সম্পর্ক বজায় রেখে আমরা পুরানো স্মৃতি মনে করে অনুভবে ফিরে যেতে পারি সেই ফেলে আসা দিন গুলোতে। সাধারণত নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার পর আমাদের ক্যাম্পাসে আসা হয় না। এ যোগাযোগ সম্পর্ক আমাদের নিয়ে যায় দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আসা সেই ক্যাম্পাসে। তাই এ যোগাযোগ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি মাত্র উপায় প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন সংঘ এর সাথে নিজেকে যুক্ত করা।

প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই এ ধরনের প্রাক্তন সংঘ তৈরি করা হয়।

এ সংঘের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজ প্রতিষ্ঠানের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে সকলের মাঝে সম্পর্ক তৈরি করা। শুধু লেখাপড়া দিয়েই জীবনের সবধরনের অভিজ্ঞতা এবং সবকিছু শিখা সম্ভব হয়ে উঠে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা, নানান চিন্তাভাবনার মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া, দেশের নামীদামী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গকে চেনা, নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সকলের মাঝে উপস্থাপন করা এবং সবচেয়ে বড় বিষয় জীবনের প্রতিটি কাজের মধ্যে কিছু না কিছু শিখার খুঁজে নেওয়া। এ সবকিছু আমাদের বাস্তব জীবনকে নানান ভাবে প্রভাবিত করে থাকে।

আমার ব্যক্তিগত একটি মতামত,

-“খুব সাধারণ কাজের মাঝেও অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন ও কিছু শিখার থাকে”।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here