আজ পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.)

0


Published : ২১.১১.২০১৮ ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ BdST

আজ বুধবার, ১২ রবিউল আউয়াল- পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যু দিবস। ৫৭০ খৃস্টাব্দের এ দিনে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি আর ৬৩২ খৃস্টাব্দে একই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন।


আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করতে এই দিনে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন এ মহামানব। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী প্রত্যেক মানুষের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

চৌদ্দশ বছর আগে বারোই রবিউল আউয়াল আরবের মরু প্রান্তরে মক্কায় কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে আলোর দিশারী হিসেবে এসেছিলেন মহানবী।

প্রিয় নবী (সা.)-এর আবির্ভাব ও ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। সেই মহামানবের জন্ম ও ওফাত দিবস ১২ রবিউল আউয়াল মুসলমানদের কাছে এক পবিত্র দিন। দিনটি পবিত্র ঈদের মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করেন।

সারাবিশ্ব যখন আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় নবীকে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। ৪০ বছর বয়সে নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে মানবজাতিকে কুসংস্কার-গোঁড়ামি থেকে শান্তি ও মুক্তির পথে আহ্বান করেছিলেন তিনি। প্রচার করেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। ৬৩ বছরে দেহত্যাগের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর শান্তির বার্তাই ছড়িয়ে গেছেন সারাবিশ্বে।এসব কারণেই পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আর ইসলাম ধর্মমতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, নবুয়তের শেষ এই নবী। মহানবী (সাঃ)-এর দেখানো পথ ও আদর্শ অনুসরণেই নিহিত মানবজাতির অফুরন্ত কল্যাণ।

পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্টপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহ’র সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ আমাদের সকলের জীবনকে আলোকিত করুক, আমাদের চলার পথের পাথেয় হোক, মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।’

এ দিন সরকারি, আধাসরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্রবাহিনীর সকল স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পতাকা ও ‘কালিমা তায়্যিবা’ লিখিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোস্টে প্রদর্শিত হবে। রাতে সরকারি ভবন ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা করা হবে।

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাসমূহে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনীর ওপর পক্ষকালব্যাপী আলোচনা সভা ও মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

এছাড়া,এ উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধনিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হবে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে আজ থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান চলবে ৪ ডিসেম্বর-২০১৮ পর্যন্ত। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর সাহানে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, মহানবী (সা) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী হবে। প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে রাত সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

এছাড়া মিলাদ মাহফিল, দোয়া-দরুদ, জিকির-আসকার ও নানা আয়োজনে দিনটি পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here