আরও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিনঃ বাংলাদেশকে অনুরোধ জাতিসংঘের

0


Published : ১০.০২.২০১৯ ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ BdST

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার মানুষদেরকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।


শুক্রবার জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ইউএনএইচসিআর’র সহকর্মীরা জানিয়েছেন যে মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে দেশের নিজ দেশেই অনেকে বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন। অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছেন।

তারা এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মিয়ানমারে নির্যাতিত মানুষদেরকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইউএনএইচসিআর। তাই যারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেবেন, তাদের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সংস্থাটি।

এছাড়া ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাত লাখ ২০ হাজারেরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা।

গত মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদেরকে জানান, রোহিঙ্গাদেরকে তাদের জন্মভূমি রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ‘অত্যন্ত ধীরগতির’ প্রচেষ্টায় হতাশ তিনি।

তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানের মূল বিষয় হলো সহিংসতা দূর করা। অথচ আমরা সম্প্রতি মিয়ানমারে আবারও সহিংসতার ঘটনা দেখলাম। অন্যদিকে বাংলাদেশে আশ্রিত মানুষগুলোর অবস্থাও দিন দিন অত্যন্ত শোচনীয় হচ্ছে।

জাতিসংঘ প্রধান বলেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদেরকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মানসিকতা তৈরির মতো পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তাই প্রথমে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রত্যাবাসনের সমস্যাটি সমাধান করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে। এই চুক্তি অনুসারে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়। গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর ঢাকায় তৃতীয় বারের মতো বৈঠক করে এই গ্রুপ।

এই বৈঠকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম রাউন্ডে ৪৮৫টি রোহিঙ্গা পরিবারের দুই হাজার ২৬০ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত করা হয়।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here