আসন বণ্টন ইস্যু: ফ্রন্ট ও জোট মিত্রদের সাথে বিএনপির গরম-ঠান্ডা লড়াই

0


Published : ২৫.১১.২০১৮ ০৭:৫২ পূর্বাহ্ণ BdST

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি কেন্দ্র করে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মিত্রদের সাথে গরম-ঠান্ডা লড়াই চলছে বিএনপির। এখন পর্যন্ত আসন বণ্টনের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া এ লড়াই আরো কয়েকদিনে জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সাথে এই গরম-ঠান্ডা লড়াইয়ে দূরত্ব তৈরি হয়ে শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টে ফাটল ধরে কী না, তা নিয়েও অনেক জল্পনা-কল্পনা আছে। তবে শেষ পর্যন্ত সকল বিরোধ মিটিয়ে সবাই একজোট হয়ে নির্বাচন করবেন বলে বিএনপির নেতাদের আশাবাদ।


বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নিয়ে এখন জাতীয় ঐক্য। বিভিন্ন সূত্রে এই জোটের শরিক দলগুলো বিএনপির কাছে ২’শর বেশি আসন দাবি করেছে। এ ছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছে ২৩ দলীয় জোট। ওই জোটের শরিকরাও বিএনপির কাছ ৮০টি আসন চায়। রাজনীতির মাঠে এই নতুন ও পুরাতন মিত্রদের অত্যাধিক আসন চাহিদার চাপে বেশ বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। এ ছাড়া দলটির মধ্যে একেকটি আসনে গড়ে ১৫ জনের বেশি আসন চেয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন নেতারা। ফলে এবারকার নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বেশ বেগ পেতে হবে বিএনপি।

এ ব্যাপারে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা কাগজকে বলেন, কোথাও কোনো ঠান্ডা লড়াই বা গরম লড়াই হচ্ছে না। পারস্পরিক আলোচনা চলছে। দেশের এক ক্রান্তিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করছি। ফলে আসন বণ্টনের বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, কাকে কত আসনে ছাড় দেওয়া হবে তা বলা মুশকিল। মূলত যে প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে খুব একটা ণ্টুখ্য ভূমিকা পালন করবে না। তবে নিশ্চয়ই যে এলাকায় যে প্রার্থীর সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী, জনসম্পৃক্ততা আছে, সব মহলে ক্লিন ইমেজ আছে, আগের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভালো ভোট পেয়েছেন, এমন প্রার্থীরাই অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবেন।

এবার বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির অন্যতম এই নীতি নির্ধারক বাংলা কাগজকে বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে এবার মনোনয়ন বিক্রি বেশি হয়েছে। এতে বোঝা যায়, মানুষ অনুকূল পরিবেশে স্ষ্ঠুু পরিবেশের অপেক্ষায়। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশি হওয়ার বিষয়কে আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবাইকে এক হয়ে কাজ করার কথা বলেছেন। কে প্রার্থী হবেন, সেটা বিবেচনা না করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও কথা দিয়েছেন। আশা করি, সবাই কথা রাখবেন।

জানা গেছে, আসন ভাগাভাগিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তিন দল মিলে ২১৫টি আসন দাবি করেছে। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম চেয়েছে ১৬০টি, আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি ২০টি আর মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ৩৫টি আসন।

গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বাংলা কাগজকে বলেন, আমরা ১৬০টি আসন দাবি করেছি। তবে একটি আসন নিয়েও আমরা কোন ঝুঁকিতে যাব না। অন্যান্য শরিক দলের চেয়ে যদি আমাদের প্রার্থী যোগ্য হয়, জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি হয়, আমরা সেটা নিয়ে কথা বলব।

নাগরিক ঐক্য’র আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা কাগজকে জানান, আমরা পুরো শক্তি নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। সারাদেশে আমাদের সংগঠনটি গুছিয়ে নেয়ার কাজটিও করতে চাই।

এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমেদ বলেন, যে সমস্ত প্রার্থী জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তাদেরকে আমরা মনোনয়ন দেবার জন্য সুপারিশ করব। অন্যায়  কোনো আবদার আমরা কেউই করবো না। এমন কী জামায়াতকে আমরা বলব, কোন অন্যায় আবদার না করার জন্য। বাংলা কাগজকে তিনি বলেন, আমি মনে করি ঐক্যফ্রন্টে যারা আছে তারা সকলে শিক্ষিত। দেশের পরিস্থিতি তারা বোঝে। কেউ ব্যর্থ হবার জন্য আসন নেবেন এটা আমি বিশ্বাস করি না।

আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলা কাগজকে জানান, মনোনয়নে কোনদিনও সকলের মন খুশি করা যায় না। মনোনয়ন হচ্ছে সবচাইতে জটিল বিষয়। অনেকেরই প্রত্যাশা থাকে মনোনয়ন পাবার। তবে সকলের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। দলের পক্ষে এটা একটা কঠিন কাজ। জোটের বিজয় নিশ্চিত করতে আসন নিয়ে দর-কষাকষি না করে সবাই ছাড় দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও প্রত্যাশা নেতাদের।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here