একজন বিক্রয় বন্ধু রাজিব আহমেদ আর তার হিং-টিং-ছট মন্ত্র!

0


Published : ০৮.০৬.২০১৮ ০২:৫৯ অপরাহ্ণ BdST

একজন রাজিব আহমেদ। কিন্তু কাজের পরিধিতে ছুঁয়ে গেছেন প্রায় সব অর্জন। হয়তো সে অর্জনে অনেক পদকের ছড়াছড়ি নেই কিন্তু মানুষের শর্তহীন ভালোবাসা আর আনন্দের মাঝেই যে তার বসত। দিন রাত মানুষের পাশে থেকে যিনি হয়ে উঠেছেন একজন বন্ধু। হয়ে উঠেছেন একজন সেরা লজিক্যাল মোটিভেশনাল স্পিকার।

ছিলেন সাংবাদিক। সেরা প্রতিবেদক হয়েছিলেন ভোরের কাগজ এর। পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তন করে কর্পোরেট শাখায় বিচরণ। খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন মানুষের জীবন যাপন। লড়াইয়ের যোগসুত্র। আর তাই কলম থামেনি তার। অগুনতি বইয়ের মাঝে নিজেকে ছাপিয়ে গেছেন , যাচ্ছেন ক্রমাগত। মেধাবী এই মানুষ হাস্যরসের এক অফুরন্ত ভান্ডার। তার মুখোমুখি হয়েছিলেন আমাদের এসিস্ট্যান্ট হেড, ব্রান্ড এন্ড মার্কেটিং এর আরেফীন দিপু। তুলে এনেছেন এই বুহুমাত্রিক মেধাবী মানুষ , স্বজন রাজিব আহমেদ এর ভেতরের বদলে যাবার আর দেবার রাজকীয় ভাবনাগুলো  ।

প্রশ্ন : ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণরা কী কী কাজ করবে এবং কিভাবে নতুন চিন্তা করতে পারে?

রাজিব আহমেদ : প্রত্যেককে আগে নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে-আড্ডা-আলোচনায় আমরা রাজা-উজির মেরে দেশ উদ্ধার করে ফেলি, অথচ আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই!

প্রত্যেকের উচিত নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা। যেমন : আমি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, কোথায় যেতে চাই এবং কিভাবে যাব? এজন্য সবার আগে যেটা করতে হবে, তাহলো আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে ফ্রেশ হয়ে ভালো কিছু চিন্তা করুন। তারপর আয়নায় নিজের দিয়ে তাকিয়ে জোরে বলুন- ‘আমি পারি, আমি পারব, আমিই করে দেখাব’!

মাদার তেরেসা’র একটা কথা আছে; ‘প্রত্যেকেটা মানুষ যদি তার বাড়ির উঠানটাকে ঠিকমতো ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার রাখত, তাহলে পুরো পৃথিবীটাই চকচক করতো।’ এর আদলে আমার কথা হচ্ছে- প্রত্যেকে শুধু যদি তাদের নিজেকে নিয়ে ভাবেন (তার মানে কিন্তু এই নয় যে সামাজিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে আত্মমুখীন করে রাখা), যদি প্রত্যেকটা মানুষ তাদের স্ব স্ব জায়গায় দাঁড়িয়ে উন্নতির চিন্তা করতো, তাহলে আর দেশ নিয়ে আলাদাভাবে ভাবার কিছু থাকতো না । পুরো দেশটা এমনিতেই উন্নত হয়ে যেত!

প্রশ্ন : আজকের দিনে তরুণদের এগিয়ে যাবার পথে মুল সমস্যা গুলো কি মনে হয় আপনার কাছে?

রাজিব আহমেদ : আমাদের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে;

১. তারা স্বপ্ন দেখে না

২. তারা জানে না- তাদের ভালো করার বা সেরা হওয়ার জায়গা কোথায়?

৩. তাদের যেখানে সময় ব্যয় করা দরকার, সেখানে না করে যেখানে দরকার নেই, সেখানে সময় নষ্ট করে।

এই কারণে তারা তাদের জীবনের পরিকল্পনা ঠিকমতো করতে পারছে না এবং শেষমেষ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে!

আমার কাছে মনে হয়- নিজের জীবনের পরিকল্পনাটা ঠিকমতো করার পাশাপাশি আত্মউন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় চিন্তা করবেন- আমি পৃথিবীকে যে অবস্থায় পেলাম, তারচেয়ে আরেকটু ভালো অবস্থানে রেখে যাবো!

প্রশ্ন : বর্তমান সময়ে তরুণরা কী কী কাজ করলে সফল হবে বলে আপনি মনে করেন?

রাজিব আহমেদ : প্রথম কথা হচ্ছে- শুরুতেই পেশা কোনটা হবে সেটা ঠিক করে এগোনো উচিত। আমি কী হতে চাই, সেটা আমাকেই জানতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষের কিছু ভালো লাগার ও ভালোবাসার ক্ষেত্র রয়েছে। কেউ যদি তার ভালোলাগার ক্ষেত্রটিকেই পেশা হিসেবে নিতে পারেন, নিঃসন্দেহে তিনি সফলতার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন!

এখানেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। আপনার যদি প্রচুর ঘোরাঘুরি আর নিত্য-নতুন মানুষের সঙ্গে মিশতে ও কথা বলতে ভালো লাগে, তাহলে বিক্রয় পেশায় আসতে পারেন। ঠিক তেমনি কেউ যদি লেখক হতে চায়, তাহলে তার প্রচুর পড়ার এবং নিয়মিত লেখালেখির চর্চা করতে হবে। কিন্তু আপনার যদি সুরেলা কন্ঠস্বর থাকে, কিন্তু হতে চান ফুটবলার, সেক্ষেত্রে আপনি কতখানি সফল হবেন, বলা মুশকিল! যদি হনও সেই ক্যারিয়ারে কখনও সুফল পাবেন না, সুখী হতে পারবেন না!

প্রশ্ন : বিক্রয় পেশায় তরুণদের কেমন সম্ভাবনা আছে বলে আপনি মনে করেন? 

রাজিব আহমেদ : আমি কখনোই বলবো না যে, সবারই বিক্রয় পেশায় আসা উচিত। বিক্রয় পেশায় আসতে চাইলে মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা, যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, কাস্টমার তথা মানুষ যেচে পরিচিত হওয়া- এই গুণাবলিগুলো থাকতে হবে। এই গুণগুলো না থাকলে বিক্রয় পেশায় আসার দরকার নেই, বরং অন্য কোনো পেশা বেছে নিন! আসল কথা হলো কোন পেশায় আসবেন- সেটা নির্ভর করবে আপনার কোন কাজটা করতে বেশি ভালো লাগে?

যেসব তরুণরা বুঝতে পারছেন না যে কী হতে চান, তাদের বলব প্রথমে তালিকা তৈরি করুন- আপনি অন্তত কোন পাঁচটি কাজে পারদর্শী বা আপনার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে? ডাক্তার, প্রকৌশলী, পুলিশ অফিসার, সাংবাদিক, উকিল, বিচারক সবই থাকতে পারে ওই তালিকায়। তারপর ওই পাঁচ/ছয়টা পেশায় ভালোমন্দ বিচার-বিশ্লেষণ করুন। প্রয়োজনে ওই পেশাগুলো সম্পর্কে যারা ভালো জানেন, তাদের সংস্পর্শে গিয়ে জানা ও বোঝার চেষ্টা করবেন- বিচারকের সুবিধা-অসুবিধা কী? পুলিশ হলে লাভ না ক্ষতি? ডাক্তার হলে সুবিধা বা অসুবিধা কোথায়?

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত সকল পেশার সুবিধা-অসুবিধাগুলো বুঝতে পারলে পাঁচটি পেশা থেকে তিনটাকে বাদ দিতে হবে; রইল বাকি দুই। তখন দু’টি বা একটি পেশা- যেটাকে টার্গেট করেছেন, সেটা হওয়ার জন্য যে ধরনের যোগ্যতা থাকা দরকার, সেগুলো ক্রমান্বয়ে অর্জন করবেন। তাহলেই এক পর্যায়ে সে জায়গামতো পৌঁছে যাবেন। আর যদি ভাবেন যে, দেখি আল্লাহ কপালে কী রেখেছেন, দেখি কোন বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া কি সহজ কথা, যেটা পাব সেটাই পড়বো। তাহলে নিজের স্বপ্নের জায়গায় কোনোদিনই পৌছতে পারবেন না, সফল হওয়া তো দূরের কথা।

প্রশ্ন : যেসব তরুণরা বিক্রয় পেশায় আসতে ইচ্ছুক, তারা কিভাবে নিজেদেরকে তৈরি করবে ?

রাজিব আহমেদ : বিক্রয় তথা মার্কেটিং পেশায় নবাগতদের মুক্তমনে শেখার মানসিকতা থাকতে হবে। স্নাতক পর্যায়ে যা শিখে এসেছেন, কর্মজীবনের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ খুবই সামান্য, নেই বললেই চলে। তাই শিখতে হবে শিশুর মতন করে নতুনভাবে। সেই শিক্ষা নিতে হবে ‘বস’-এর কাছ থেকে, সহকর্মীর কাছ থেকে, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হবে মার্কেট থেকেও। পেশাগত জীবনে যারা সিনিয়র, তাদের কাজকর্ম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিতে কর্মরত বিক্রয় পেশাজীবীর কাছ থেকে শিখতেও কার্পণ্য করবেন না।

এসবের পাশাপাশি আর দু’টি কাজ পেশাগতভাবে এগিয়ে নেবে- ১. বিক্রয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং ২. বিক্রয় পেশা বিষয়ক বইপত্র সংগ্রহে রাখা ও নিয়মিত অধ্যয়ন।

রাজিব আহমেদ এর ইন্টারভিউ শেষ করে বেরুতে গিয়ে মনে হলো আসলেই তো, এগিয়ে যাবার হিং-টিং-ছট মন্ত্র বলে কিছু নেই। কাজ করে যেতে হবে। ভাবলাম অনেক কিছুই করার ছিলো আমার। আমাদের। এভাবে ভাবতে পারছে কি আমাদের তরুণরা?

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here