খাদ্যে ভেজাল রোধে সারাদেশে অভিযান চলছে, চলবে: প্রধানমন্ত্রী

0


Published : ০৩.০২.২০১৯ ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ BdST

খাদ্যে ভেজালরোধে সারাদেশে অভিযান চলছে, চলবে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের মতো ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। খাদ্যে ভেজালও এক ধরনের দুর্নীতি। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


রোববার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। সরকার পুষ্টিহীনতার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মানুষের জীবন ধ্বংসের অধিকার কারও নেই। খাদ্যে ভেজাল দেওয়াও এক ধরনের দুর্নীতি, এটা বন্ধ করতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের চাহিদা কখনও শেষ হয় না। এর চাহিদা থাকবেই। আমরা চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য যোগান দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দেশীয় মাছ উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তাই আজ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু মাছ নয় ডিম, দুধ, মাংস এসব আমিষ জাতীয় খাদ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা পুষ্টিকর খাদ্যের ওপর বিশেষ নজর রাখছি।

তিনি বলেন, আমরা খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো যেন সঠিকভাবে মজুত করা যায় সে লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছি। দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২৭ লাখ মেট্রিক টনে নিয়ে যাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য চাহিদা কখনও শেষ হয়ে যায় না। যেহেতু আমাদের জমি বেশ উর্বর সেজন্য আমরা ফসল ফলনে নানা ধরেনের উদ্যোগ নিয়েছি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা দেশজুড়ে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করেন, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল মজুদ করতে পারেন। আমরাও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করছি। আমরা নতুন করে দেশজুড়ে সাইলো তৈরি করে দিচ্ছি। ২৭ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুষ্টিকর খাবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। মা-শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে অতিদরিদ্রদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মা যাতে তার শিশুর পরিচর্যা করতে পারেন সেজন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয়মাস করে দিয়েছি। আগে এটা তিনমাস ছিল, পরে চার মাস করেছিলাম।

নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। দেশের মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের বিষয়টি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও রয়েছে, তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। আবারও সেবা করার সুযোগ দেয়ায় আমরা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের ভোটের মর্যাদা আমরা রক্ষা করবো। বাংলাদেশ হাতে পেতে চলবে না। উন্নত দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here