গতি নেই ঢাকার!

0


Published : ২৪.১১.২০১৮ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ BdST

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু কোন উদ্যোগই পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না সংস্থা দু’টি। ২০১৫ সালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২২ ইউলুপ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এই ইউলুপ নির্মাণ থেকে সরে এসে ১১ ইউটার্ন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এর তেমন কোন অগ্রগতি নেই। ফলে আদৌ এসব ইউটার্ন নির্মাণ হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যানজট কমাতে ২০১৫ সালে  তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে ২২ টি ইউলুপ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে এ প্রকল্পটি থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। কারণ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় স্থান পাওয়া কঠিন। এছাড়া ইউলুপ (ফ্লাইওভারের ন্যায়) নির্মাণ করলে ট্রাফিক জ্যাম বিড়ম্বনা আরো বাড়তে পারে। এই আশঙ্কার কথা চিন্তা করেই ইউলুপের পরিবর্তে ১১ ইউটার্ন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ইউটার্ন নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু বাড্ডার একটি ইউলুপ নির্মাণের পর আর কোন ইউটার্ন বা ইউলুপ নির্মাণ করা হয়নি।

জানা গেছে, তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে মোট ১১টি ইউটার্ন নির্মাণকাজে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ডিএনসিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা আসবে ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি ২০ কোটি টাকা আসবে সরকারি অনুদান থেকে। প্রকল্পটি গ্রহণের ৪ মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের কোন অগ্রগতি নেই।

জানা গেছে, প্রকল্পটি এখন দুই পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটি সাতরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন এবং বাকি অংশ আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মোট দশটি ইউটার্ন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। প্রথম অংশ বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়ন করবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। ডিএনসিসির অংশে ইতিমধ্যে বাড্ডায় একটি ইউটার্ন স্থাপন করা হয়েছে। বাকি কাজ নানা জটিলতায় আটকে আছে। শিগগিরই এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে বাংকা কাগজকে জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী ও ডিএনসিসি অংশের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মাহবুব আলম। উন্নত বিশ্বের ন্যায় শহরের রাস্তায় যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন করা ও রাজধানীর চলমান যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব ইউটার্ন নির্মাণের পর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর যানজট প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যাবে বলে ডিএসিসি কর্তৃপক্ষের করা গবেষণায় জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৪ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনসিসি তাদের সীমানায় ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ করবে। ইতিমধ্যেই টেন্ডার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ দরপত্র মূল্যায়ন কাজ করছে। সূত্র জানায়, প্রাথমিক প্রস্তাবনায় ২২টি ইউটার্নের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ১২টি ইউটার্ন নির্মাণের কথা থাকলেও পর্যাপ্ত স্থান সংকটের কারণে একটি ইউটার্ন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না তবে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে উত্তরার হাউসবিল্ডিং পর্যন্ত ১১টি নির্মাণ করবে ডিএনসিসি। অপরদিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তার তেলিপাড়া পর্যন্ত ১০ টি ইউটার্ন নির্মাণ করবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি)। ইউটার্নগুলো নির্মাণ করতে ৩৭.০৯ বিঘা জমির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথের ৩১ দশমিক ২৫ বিঘা, রেলওয়ের ১ দশমিক ৬১ বিঘা ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ১ দশমিক ৮৩ বিঘা জমি রয়েছে। এসব জমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সংস্থাগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব জমি বর্তমানে অব্যবহৃত থাকায় কোন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

এদিকে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি তৈরি করা হলেও বাস্তবায়নের জন্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমি নেই। প্রকল্পে ইউটার্ন নির্মাণের জন্য যেসব স্থানের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার। নাগরিকদের সুবিধার্থে ইউটার্ন তৈরির জন্য এসব জমি প্রয়োজন। তাই এসব জমি ব্যবহারের অনুমতি নিতে হচ্ছে। ফলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে অনুমতি পেতে দেরি হওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেও বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসি জানায়, এসব ইউটার্নের জন্য দুই ধরনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। একটিতে ছোটবড় দুই ধরনের যানবাহন চলবে। অন্যটিতে শুধু ছোট গাড়ি চলবে। একটি ইউটার্ন থেকে আরেকটি ইউটার্নের সর্বনিম্ন দূরত্ব হবে ৮শ’ মিটার আর সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এসব ইউটার্ন দিয়ে গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারবে। তখন বিভিন্ন মোড়ে কোন ট্রাফিক পুলিশেরও প্রয়োজন হবে না। এতে রাজধানীর যানজট অনেকটা কমে আসবে।

ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম বাংলা কাগজকে বলেন, রাজধানীর যানজট কমাতে অতি দ্রুত আমরা এসব ইউটার্নগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু করব। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। সকল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই আমরা ইউটার্ন নির্মাণকাজ শুরু করব। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সংশ্লিষ্টতা থাকায় ও কারিগরি দিক বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here