চার লাল কার্ডের ফাইনালে বসুন্ধরাকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

0


Published : ২৪.১১.২০১৮ ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ BdST

ফুটবলে মৌসুম শুরুর প্রতিযোগিতা ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লি.। ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল আবাহনী লিমিটেড। নবাগত বসুন্ধরা কিংসের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে ফেডারেশন কাপের শিরোপা ধরে রাখল জাকারিয়া বাবুর দল। সানডে চিজোবা ও কেরভেন্স ফিলস বেলফোর্টের গোলে গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে জিতে আবাহনী।


এ নিয়ে ফেডারেশন কাপে টানা তৃতীয় এবং সব মিলিয়ে একাদশ শিরোপা জিতল আবাহনী। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে (১০টি) পেছনে ফেলে এককভাবে সবচেয়ে বেশিবারের চ্যাম্পিয়ন এখন ধানমন্ডির দলটি।

প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গোল পাচ্ছিল না আবাহনী। পঞ্চম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বসুন্ধরা কিংসের কোস্টা রিকার ফরোয়ার্ড দেনিয়েল কলিনদ্রেস সোলেরার শট আটকে দলটির ত্রাতা ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল।সোলেরাকে ফাউল করে উল্টো চোট পাওয়া তপু বর্মন ১৬তম মিনিটে মাঠ ছাড়লে ধাক্কা খায় আবাহনী। তার বদলে টুটুল হোসেন বাদশাকে নামান আবাহনী কোচ জাকারিয়া বাবু।

২১তম মিনিটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ফাইনালে আসার পথে প্রতিযোগিতার সাবেক তিন চ্যাম্পিয়নকে হারানো বসুন্ধরা। আলমগীর রানার লব শহীদুল আলম সোহেল ফিস্ট করার পর ডি বক্সের মধ্যে পেয়ে যান সোলেরা। একটু সময় নিয়ে বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন কোস্টারিকার হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা এই ফরোয়ার্ড। ফেডারেশন কাপে এটি তার পঞ্চম গোল। ২৫তম মিনিটে ওয়ালীর কর্নারে গোলমুখ থেকে হাইতির ফরোয়ার্ড বেলফোর্টের হেড ফেরান বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ধার বাড়ায় আবাহনী। ৫৬তম মিনিটে নাসিরউদ্দিনকে কাটিয়ে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চিজোবার বাঁ পায়ে শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে শিরোপাধারীদের গোলের অপেক্ষা আরও বাড়ে।

৫০তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে রায়হানের থ্রো ইনের পর দূরের পোস্টে থাকা চিজোবা নিখুঁত টোকায় জাল খুঁজে নেন। প্রতিযোগিতায় এটি তার পঞ্চম গোলে সমতায় ফিরে আবাহনী। চিজোবা-সোহেল রানার মিলিত প্রচেষ্টায় ৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় আবাহনীকে। একাধিক ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে আক্রমণে ওঠা সোহেলের ডি বক্সের একটু ওপর থেকে বাড়ানো বল ডান পায়ের প্লেসিং শটে জালে জড়িয়ে দেন চিজোবা। এ গোলেই ফেডারেশন কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর ওয়ালীর কর্নার থেকে বেলফোর্ট হেডে কাছের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নিলে আবাহনীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ দিকে আক্রমণে ওঠা চিজোবাকে নাসিরউদ্দিন কনুই দিয়ে গুঁতো মারলে উত্তেজনা ছড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে। চোট পেয়ে চিজোবা মাঠ ছাড়েন।

তার বদলি নামেন আরেক ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবন। এরপর খেলা শুরু হতে না হতেই ফের মারমুখী দুই পক্ষ। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের এক পর্যায়ে সুশান্ত ত্রিপুরাকে জীবন হাত দিয়ে আঘাত করার পর ত্রিপুরা লাথি মেরে বসেন। এরপরই দৌড়ে এসে সুশান্তকে পেছন থেকে পিঠে লাথি মারেন মামুন মিয়া। এরপর মামুনকে লাথি মারেন তৌহিদুল আলম সবুজ। চার জনকেই লালকার্ড দিয়ে বের করে দেন রেফারি।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here