জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বৈশ্বিক ঐক্যমত্যের সাথে সঙ্গতি রেখে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে মনযোগ দিতে হবে: ড. আতিউর রহমান

0


Published : ১৯.০৩.২০১৯ ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ BdST

“ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতবিরোধের মধ্যেও সারা বিশ্ব আজ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। এবং এ জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে অধিকাংশ দেশ। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশেও নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে।” – বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।


আজ ঢাকায় ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সহায়তায় এই সংলাপ আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়। সংলাপে অংশগ্রহণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কুড়িগ্রাম ১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. আসলাম হোসাইন সওদাগর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য জামালপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. ফরিদুল হক খান এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য গাইবান্ধা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটওয়ারি। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারি প্রতিষ্ঠান, নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষজ্ঞ, নবায়নযোগ্য শক্তি উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠান, এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

সংলাপে বক্তারা বলেন যে, নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকারি এবং সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর (আরইবি ও পিডিবি) মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা বিশেষত যারা সোলার হোম সিস্টেম, সোলার মিনি গ্রিড ও সোলার ইরিগেশন পাম্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন, তারা ব্যবসায় কাক্সিক্ষত লাভ করতে পারছেন না, এমন কি ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। আগে গ্রিড সংযোগ ছিলো না এমন এলাকায় যারা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবসা করা শুরু করেছিলেন সেখানে গ্রিড সংযোগ পৌঁছে যাওয়ায় এমন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তারা ইডকল সমর্থিত অর্থায়ন পরিশোধে অসফল হতে বাধ্য। এর ফলে এক্ষেত্রে বিশ^ব্যাপী যে সুনাম হয়েছে তা বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়াও আমদানি করের চাপ, নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকা, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি কারণেও বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রসার বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, সরকার, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদাররা বাংলাদেশে কাংখিত মাত্রায় নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে যথাসম্ভব উদ্যোগ নিতে প্রতিশ্রুত। এ জন্য বাস্তব সম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা সুসমন্বিতভাবে অর্জনের উদ্যোগ নিতে হবে।

ড. আতিউর বলেন যে, কর-কাঠামো সংশোধন, গ্রিন বন্ড চালু করা, সম্ভব হলে ভর্তুকি প্রদান, মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন ও নীতির বাস্তবায়ন ইত্যাদি উদ্যোগের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারি সংস্থাগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার, অর্থায়নকারি সংস্থা, ব্যক্তি খাত এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ও সুসমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here