দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তা বাড়াতে হবে: আতিউর রহমান

0


Published : ২৪.১১.২০১৮ ০৬:৫০ অপরাহ্ণ BdST

রাশেদ শুভ্র: তরুণরাই দেশের সম্পদ। পৃথিবীর ইতিহাসে পরিবর্তনের সকল ধারায় তরুনদের ভুমিকা অনস্বীকার্য। এমনকি বাংলাশেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেবার জন্য তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তরুণরাই পারে দেশের উন্নতিতে অবদান রাখতে। আর দেশের উন্নতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য তরুণ উদ্যোক্তা বাড়াতে হবে।


শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলোনায়তনে ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’র উদ্যোগে ‘তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সভার প্রধান আলোচক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

আতিউর রহমান বলেন, এইচএসবিসি রিপোর্ট (২০১৮) অনুযায়ী বাংলাদেশ অচিরেই ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। বর্তমানে তার অবস্থান ৪২তম। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে বংলাদেশ এ অবস্থান অর্জন করবে। বাংলাদেশ বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখে ২০৩০ সাল নাগাদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

আমরা স্বপ্ন দেখছি ততদিনে প্রবৃদ্ধির হার আরো দ্রুততর হবে এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ২০টি বড় অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। আমাদের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ন করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি, জনসংখ্যা, অবকাঠামো, তরুণদের উদ্যোগসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কুশলী নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩০ সালে উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোকে সময়মতো বাস্তবায়ন করা, শিক্ষিত তরুণদের দক্ষ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বড় কর্পোরেট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সম্পূরক সম্পর্কে সংযুক্ত রাখা, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোর বহুমুখী ও বহুদেশাভিমুখী করা, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করা, ব্যক্তি খাতকে সবুজ প্রবৃদ্ধির খুঁটি হিসেবে উৎসাহিত করা, সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করা, স্মার্ট ও সবুজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের মতো মৌল নীতি সংস্কারে নেতৃত্বকে নিরস্তর মনোযোগী থাকতে হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তরুনদের কাজের অগ্রগতির জন্য তাদের একটি প্লাটফর্ম প্রয়োজন, যা এ সংগঠনটি করতে পেরেছে। এ সংগঠনটির মাধ্যমে তরুণরা শুধু দেশরই নয় গোটা বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জুয়েল কিবরিয়ার ও ওয়ার্ল্ড লিংকআপ এর এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্যানেলের সমন্বয়ক হিয়া মুবাশ্বিরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামান। এ সময় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক একেএম ফজলুলর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড লিংক আপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ।

 

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here