নকশা বাস্তবায়ন করাই এখন চ্যালেঞ্জ: ড. আতিউর

0


Published : ০৩.০৩.২০১৯ ০৫:১০ অপরাহ্ণ BdST

আজ (০৩ মার্চ ২০১৯) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট-এসামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তর বিষয়ে তিনি এ কথা বলেন। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সরকারের এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।


তিনি আরও বলেন যে, গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ সাত শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। যদি প্রবৃদ্ধির এই হার ধরে রাখা সম্ভব হয় তাহলে প্রতি দশ বছরে দেশের অর্থনতির আকার দ্বিগুণ করা যাবে সহজেই। এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে স্বাস্থ্য, জেন্ডার, প্রাথমিক শিক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত সূচকগুলোতেও ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কারণে বাংলাদেশের পক্ষে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উঠে আসা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বব্যাপি আর্থিক মন্দা সত্ত্বেও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেধারাবাহিকতাধরে রেখেছেবাংলাদেশ।
তবেএখনবাংলাদেশ দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনের মতো বড় বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে আছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে জন-প্রশাসন ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদেরকে হতে হবে খুবই দক্ষ ও সপ্রতিভ, এ জন্য চাই নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনিয় জ্ঞান। দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম এমন দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন স্নাতক তৈরি করতে আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকেই ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের দেশের ভেতরের ভোক্তাদের মধ্যে যারা মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের তারা স্বভাবতই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের ব্র্যান্ডের বিষয়ে আগ্রহী। এই শ্রেণীর ভোক্তাদের চাহিদা পূরণে আমাদের বিশেষ মনযোগি হতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের বাজারে প্রতি বছর এমন ২০ লক্ষ ভোক্তা যুক্ত হচ্ছেন। কাজেই নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করার পাশাপাশি দেশের ভেতরের বাজারের চাহিদা পূরণেও মনোনিবেশ করতে হবে।
ড. আতিউর আরও বলেন যে, উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য এবং জনগণ ও সেবা গ্রহিতাদের অভিমত জানার জন্য আমাদের অবশ্যই ডিজিটাল প্রযুক্তির শরণাপন্ন হতে হবে। প্রতিযোগি দেশগুলোর তুলনায় আমাদের সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক কম। কাজেই প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অক্ষুন্ন রাখতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
জাতির সামনে আমরা ইতোমধ্যেই সুপরিকল্পিত উন্নয়ন কৌশল তুলে ধরেছি। এই কৌশল বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সংস্কৃতি অনুসরণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে মানসম্পন্ন বাস্তবায়ন বিশেষ মনযোগ দাবি করে। সব শেষে, তিনি বলেন যে, দ্রুত অগ্রসরমান বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পটি বিশ্ব পরিসরে আরও চৌকস ভাবে তুলে ধরতে হবে যাতে করে আমরা আরও বেশি পরিমাণে বিদেশী বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনগুলোকে আকৃষ্ট করতে পারি এবং বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির চাকা আরও গতিশীল হয়।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here