পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে -রক্তলাল, রক্তলাল, রক্তলাল!

0


Published : ০১.১২.২০১৮ ০৭:০৮ পূর্বাহ্ণ BdST

‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে -রক্তলাল, রক্তলাল, রক্তলাল/ জোয়ার এসেছে জনসমুদ্রে/ রক্তলাল, রক্তলাল, রক্তলাল…।’ ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের এই প্রথম দিনটি  থেকেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বার বার প্রচারিত হতে থাকে এই গান। যে গান বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে আর বিস্তৃত প্রান্তরে ছড়িয়ে দেয় বাঙালির আর বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর আসন্ন বিজয় বার্তা।


মুজিবনগরে বসে যুদ্ধের খতিয়ানে এদিন দেখা যায় যে দেশের এক চতুর্থাংশ এলাকা হয় মুক্তিবাহিনীর পুরোপুরি দখলে, না হয় মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনেক এলাকাতেই মুজিবনগর সরকারের নির্দেশে বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এগারোটা সেক্টর কমান্ডারদের অনেকেই এ সময় বাংলাদেশের মাটিতে অস্থায়ী ক্যাম্প হেডকোয়ার্টার স্থাপন করেছেন।

খুলনার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের মাঝ দিয়ে গোপালগঞ্জ ও বরিশালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের উপকণ্ঠে মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আখাউড়া সেক্টরের ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে মুক্তিবাহিনীর সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের হাওড় এলাকা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পশ্চাৎপসরণ করেছে। টাঙ্গাইল জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা মুক্ত হওয়ার পর স্বাধীন বেসামরিক প্রশাসন চালু হয়েছে। তিস্তা ও ব্রম্মপুত্র তীরবর্তী সমগ্র অঞ্চল মুক্তিবাহিনীর দখলে। সিলেট জেলার জকীগঞ্জসহ চা বাগানের মুক্তিবাহিনীর দখলে।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় মহকুমা এখন মুজিবনগর সরকারের নিয়ন্ত্রণে। রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটে যায়।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here