প্রতীককেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি জোট

0


Published : ০১.১২.২০১৮ ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ BdST

এক আসনে বিএনপি তাদের একাধিক দলীয় প্রার্থীকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দিলেও নেতা-কর্মীরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত একজনকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। তখন ব্যক্তি নয়, দলীয় প্রতীককেই প্রাধান্য দিয়েই তারা ভোট দেবেন। ঠিক এমনই অবস্থা জানিয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর নেতারাও। তারা বলছেন, এবার সবার প্রতীক ধানের শীষ। তাই ধানের শীষ যে পাবে, তাকেই সামনে রেখে প্রচারণা চলবে। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই এক থাকবে। এখানে ব্যক্তি, দল, জোট বা ফ্রন্টের চেয়ে প্রতীকই বেশি প্রাধান্য পাবে। 


জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন্ সামনে রেখে বিএনপি সারাদেশে ৩০০টি আসনে প্রায় ৮শ’জন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। একই সাথে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা পৃথকভাবে দলীয় প্রার্থীদের মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এমন অনেক আসন আছে, যেখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থী আছেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আছেন, আবার জামায়াতেরও প্রার্থী আছেন। তাই দল ও জোটের সর্বত্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শেষ পর্যন্ত কে হবেন ধানের শীষের প্রার্থী। কারন, এবার বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট, জামায়াতসহ ২৩ দলীয় জোটের শরিক সব দলের প্রতীক ধানের শীষ। তাই ধানের শীষ যে পাবেন, তাকেই দল, জোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা বিজয়ী করার জন্য কাজ করবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ৩০০ আসনে বিএনপি ৮শ’ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার উদ্দেশ্য যাতে সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে একটা সাড়া তুলেন। নেতা-কর্মীরা যাতে সারাদেশে তৎপর হোন এ জন্য একাধিক প্রার্থী। এ ছাড়া কোনো প্রার্থী বাদ গেলে যাতে ওই আসন ফাঁকা না থাকে, সেই বিকল্প রাখতে গিয়েই একাধিক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া সব প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফরমে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতা শেষে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার পরই অন্য প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে বিএনপি। তখন দল, জোট এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে একজনই ধানের শীষ পাবেন। তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন বলে নেতারা আশা ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বাংলা কাগজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় সব আসনেই একাধিক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এটা মূলত নির্বাচনি কৌশল। তবে ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন থাকায় এর আগে দল, জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের সাথে চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তখনই ধানের শীষ নিয়ে একক প্রার্থী থাকবেন।

জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী সম্পর্কে বিএনপির এই অন্যতম নীতিনির্ধারক বাংলা কাগজকে বলেন, এটা দরকষাকষির জন্য একটা কৌশল। এখনো আলোচনার সুযোগ আছে। একটা সমাধান হবেই। অন্যদিকে জানা গেছে, এখন সারাদেশে নির্বাচনি এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্তরা। কেউ কেউ উঠান বৈঠক করছেন, আবার কেউবা দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা করছেন। উদ্দেশ্য একটাই, যেই ধানের শীষ পাবে, তার পক্ষে সবাই এক হয়ে লড়বে।

সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন ইনাম আহমদ চৌধুরী এবং খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তারা দুইজনই এখন নগরীতে দলের নেতাদের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাত করছেন। কেউ কেউ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আশীর্বাদ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলা কাগজকে বলেন, কৌশলগত কারনে এবার সারাদেশে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থীকে একই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেটেও দুইজন পেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত দল যাকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য মনে করবে, তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। তখন সবাই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। সিলেট-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন মামুনুর রশিদ, আবার জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি ফরিদউদ্দিন চৌধুরী। এই আসেন ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপিজোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের ফরিদউদ্দিন চৌধুরীকেই সমর্থন দেওয় হয়। এবারও তার ব্যত্যয় হবে না বলে নেতা-কর্মীরা মনে করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের একজন নেতা বলেন, এবার বিএনপি, জোট বা ঐক্যফ্রন্ট থেকে কোন দলের কে প্রার্থী হবেন, সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য হচ্ছে প্রতীক ধানের শীষ। ধানের শীষ যে-ই পাবেন, তার পক্ষেই সবাই কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। এ নিয়ে দল বা জোটে বিভাজন তৈরি করলে আওয়ামী লীগেরই লাভ হবে। আর গত ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্যাতন করছে, তাতে বিএনপি বা জোটের কেউ সরকারের ফাঁদে পা দেবে বলে বিশ্বাস করতে চাই না। তবে কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে এক রকম স্নায়ুযুদ্ধ চলছে বলে। একে অন্যের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here