প্রশ্ন ফাঁসের মিছিল থামানো অতীব জরুরী

0


Published : ১১.০২.২০১৮ ০১:১২ অপরাহ্ণ BdST

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্র্রশ্ন একের পর এক ফাঁস হয়েই চলছে। মনে হচ্ছে যেন সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেই প্রশ্নফাঁস করা হচ্ছে।

১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ পর্যন্ত হওয়া ৬টি বিষয়েরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর জানা গেছে। প্রথম পরীক্ষার আগের রাত ১২টা ৪৯ মিনিট থেকেই একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বাংলা প্রথমপত্রের ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। এটি মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়াতে থাকে। যেটি অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এখানেই শেষ নয়, একই আইডি থেকে পরবর্তী প্রশ্নফাঁসের কথা জানিয়ে বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়।

প্রতি প্রশ্নপত্রের দাম ধরা হয় ৩০০ টাকা। যারা প্রশ্ন নিতে চায় তাদের কাছে প্রবেশপত্রের ফটোকপি অথবা অগ্রিম ২০০ টাকা দাবি করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, যার আইডি থেকে ফেসবুকে প্রশ্ন ছড়ানো হয়েছে তাকে শনাক্ত করে ধরা হবে। কিন্তু কীসের কী? এর পর ধারাবাহিকভাবেই ঘটেছে প্রশ্নফাঁস। কর্তৃপক্ষ অসহায়, নির্বিকার।

গত বছর এসএসসির পর জেএসসি এমনকি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত কিছুদিন ধরে কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পরীক্ষা গ্রহণ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এবার ফেসবুকে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষা হলে সরবরাহকৃত প্রশ্নের হুবহু মিল দেখা যাওয়ার পরও শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করছেন না প্রশ্নফাঁসের কথা। এবারো বিষয়টিকে মিথ্যা ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এভাবে সত্য স্বীকার না করে করেই আজ প্রশ্নফাঁসের ব্যাধি মহামারিতে পৌঁছেছে।

রাজধানীভিত্তিক ৭টি সিন্ডিকেটসহ প্রায় ২৫টি হাইস্কুল প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি সিন্ডিকেট পরীক্ষার কেন্দ্রভিত্তিক ও তিনটি সিন্ডিকেট কোচিং সেন্টারভিত্তিক। ঢাকা মহানগরীর জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে চারটি সিন্ডিকেট। বেশ কয়েকটি শিক্ষক সমিতির নেতা এবং বড় বড় স্কুলের প্রধান এসব সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেন। শতভাগ পাসের হার এবং জিপিএ-৫ বাড়ানোর জন্য এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্কুলগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। কারণ এখন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা স্কুল নির্বাচিত হয়।

সন্তানদের উচ্চ রেজাল্টের আশায় প্রশ্ন ফাঁসকারী দুর্বৃত্তদের খপ্পরে পড়েন এক শ্রেণির নৈতিকতাহীন অভিভাবকরা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এসব তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্টরা জানেন না এটা নিশ্চয়ই নয়। তারপরও তা প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ কেন নিতে পারেননি তারা, এটাই প্রশ্ন।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষা মন্ত্রী অনেক হাঁকডাক করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হলো না। রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নফাঁস করা হলো চলমান এই পরীক্ষার অন্তত ৬টি বিষয়ের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে উদ্বেগহীন। যেন কিছুই হয়নি। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তো স্রেফ বলে দিলেন যে, কোনো পরীক্ষার প্রশ্নই ফাঁস হয়নি। এখনো যদি অস্বীকারের নীতিই বহাল রাখা হয় তাহলে সমস্যা উত্তরণে তাদের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নানা উৎস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। একটি দুটি উৎস বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বাকি উৎসগুলো বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেটগুলো অনেক শক্তিশালী। প্রকাশিত তথ্য মতে, একেবারে পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ পর্যন্ত তাদের হাত বিস্তৃত। কিন্তু তারা সরকারের চেয়ে শক্তিশালী নিশ্চয়ই নয়। ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁস নিয়ে অনেক তথ্য জানাজানি হয়েছে।

সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হলে প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

 

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here