“ফ্ল্যাগ গার্ল ” নাজমুন দেশে ফিরছেন ২৯ জানুয়ারী

0


Published : ২৫.০১.২০১৯ ০৯:১৫ পূর্বাহ্ণ BdST

এয়ার এরাবিয়ান এর জি ৯৫১৭ নম্বর ফ্লাইট-এ বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নাজমুন নাহার দেশে ফিরছেন ২৯ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল নয়টায়! স্টকহোম অরলান্ডা এয়ারপোর্ট থেকে তিনি নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্সের ডি ওয়াই ৫৬০১ নম্বর ফ্লাইটে রওনা হবেন ২৭ জানুয়ারী রোববার  দুপুর ১৪:৫৫ মিনিটে!


একদিনের ট্রানজিটে দুবাইতে তিনি অবস্থান করবেন! দুবাই বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি ও প্রবাসী বাঙালিদের  আমন্ত্রণে তিনি সাংবাদিকদের সাথে তার বিশ্বব্যাপী পতাকা বহন ও বিশ্ব শান্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করবেন! এছাড়াও সড়ক পথে তার দুর্দান্ত জার্নির কথা তুলে ধরবেন! এই নারী শত ত্যাগ তিতিক্ষা অতিক্রম করে  বাংলাদেশেকে কিভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন সারা বিশ্ব জুড়ে  তার সেই ১২৫ দেশ জয়ের অভিযাত্রার কাহিনী  নিয়ে নতুন জয়ের রেকর্ড হাতে নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখবেন তিনি!

ঐতিহাসিক বিশ্বভ্রমণের রেকর্ড ছুঁয়েছেন নাজমুন নাহার! বাংলাদেশের এই গর্বিত নারী এখন পর্যন্ত লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন বিশ্বের ১২৫ টি দেশে! বাংলাদেশের কোনো মানুষের এই প্রথম এতো গুলো দেশ ভ্রমণ! ১২৫ তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেন নাইজেরিয়া! পৃথিবীর মানচিত্র এক সময় যার অধ্যয়নে এবং স্বপ্নের মধ্যে ছিল এখন তার হাতের মুঠোয়! ছোটবেলা থেকেই যে নারী স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের পতাকা হাতে ঘুরবেন সারাবিশ্ব- আজ তার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে!

তিনি একা একা পৃথিবীর ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছেন, কখনো সাহারার মরুভূমি, কখনো বিপদসঙ্কুল আফ্রিকান জঙ্গল আবার কখনো বা সমুদ্রের তলদেশে গিয়েছেন। নাজমুন নাহার বেশিরভাগ দেশই ভ্রমণ করেছেন সড়ক পথে একা একা! এ তালিকার মধ্যে রয়েছে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও যুগোস্লাভিয়ার  প্রতিটি দেশ! এ ছাড়াও তিনি সড়ক পথে সফর করেছেন ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ!

সম্প্রতি ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত সড়ক পথে  ঘুরেছেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫ টি দেশ, এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আটলান্টিকের পাশ ঘেঁষে যাওয়া সব দেশ গুলোর নাম! ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সুইডেন থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ গ্রান্ড ক্যানারিয়া হয়ে  তিনি শুরু করেছিলেন মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মালি, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, বুরকিনা ফাসো, গানা, টগো, বেনিন, নাইজার ও নাইজেরিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে কঠিন পথ যাত্রা! নাজমুন নাহার এবারের যাত্রা শুরু করেছেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার রাজধানী নোয়াকচট থেকে! শেষ করছেন নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে! এর মাধ্যমে তার শেষ হলো পশ্চিম আফ্রিকার সাহারা মরুভুমি ও গোল্ড কোস্ট লাইনের প্রতিটি দেশ ভ্রমণ!

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি  বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসাবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে! ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়! সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তাঁর জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমন! বিশ্বের আশিটি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন!

২০১৮ সালের ১ লা জুন  নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে!

তার এই মাইলফলককে সম্মাননা দিয়েছেন জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েনা! জাম্বিয়া সরকারের গভর্নরের কাছ থেকে পেয়েছেন ফ্ল্যাগ র্গাল উপাধি!

বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি  বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসাবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে!  এ পর্যন্ত সারা বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে প্রায় লক্ষাধিক বাচ্চার সাথে তিনি বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে পরিচয় করিয়ে দেন! এছাড়াও পথে পথে তিনি স্কুল, কলেজ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছান!

সম্প্রতি তিনি তিনি ঘানা ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুল, গাম্বিয়ার ‘সানায়াঙ আপার স্কুল সহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ১৭ টি স্কুলে প্রায় চল্লিশ হাজারের ও বেশি বাচ্চাদের সাথে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন!

বিশ্ব জুড়ে তার দীপ্ত পদচারণার শব্দে উদ্দীপিত অনেক তরুণ! পৃথিবী জুড়ে তিনি শিশু ও তরুণদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন শান্তির বার্তা, আর তাদেরকে জাগিয়ে তুলছেন স্বপ্ন দেখার শিহরণে!

নাজমুন নাহার বলেন, কোটি প্রাণের লাল সবুজের পতাকা হাতে পূর্ণ হলো দেশ ভ্রমণের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ড! ১২৫ দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাকে নিয়েছি সর্বোচ্চ উচ্চতায়!

বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখনি আমি নতুন কোনো দেশের সীমান্তে পা দিয়েছি তখনই আমার সাথে যেন জেগে উঠেছে ষোলো কোটি প্রাণ!

যে নারী মৃত্যু ভয়ে পিছিয়ে যাননি, বাংলাদেশের পতাকা হাতে  জয় করে চলছেন এক এক করে প্রতিটি যাত্রা! যে নারী বন্য প্রাণী ভরা জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন, গরুর কাঁচা মাংস খেয়ে বেঁচে ছিলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম আদি বাসীদের এলাকায় অভিযাত্রা করেছেন, ভ্রমন কালে কত বার না খেয়ে বেঁচেছিলেন, মৃত্যুকে হাতে নিয়ে বহু উচ্চ পর্বত শৃঙ্গ জয় করেছেন, সামুদ্রিক দ্বীপ পূঞ্জের দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পৃথিবীর বহু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে দেখার জন্য বহু প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তিনি এগিয়ে চলছেন দুর্বার গতিতে! যাত্রা পথে যার হৃদয়ে এনং মূখে প্রতিটি মুহূর্তে উচ্চারিত হয়েছিল বাংলাদেশের কথা! তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের  কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের  সংস্কৃতি ও প্রকৃতির কথা, পরিচয় করে দিয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা ও মানচিত্রকে!

নাজমুন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এভাবেই গৌরবের সাথে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বিশ্ববাসীর কাছে!

 

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here