বাংলাদেশের চমকপ্রদ উন্নয়নের গল্পের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুঃ ড. আতিউর রহমান“

0


Published : ১৮.০৩.২০১৯ ০৭:১৩ অপরাহ্ণ BdST

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন জনগণের প্রাণের নেতা। তিনি সব সময় মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তাঁর চিন্তায়, দর্শনে এবং অনুশীলনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন বরাবরই কেন্দ্রীয় জায়গায় ছিলো। বাংলাদেশের চকমপ্রদ উন্নয়ন অভিযাত্রার ভিত্তিও গড়ে দিয়ে গেছেন তিনিই।”- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।


রোববার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯-তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত অলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব কবি শেখ হাফিজুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাষা সৈনিক এডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।

ড. আতিউর বলেন যে, বঙ্গবন্ধু অবাস্তব রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই এ দেশের মানুষের প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ে সজাগ ছিলেন। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে এই বৈষম্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মাত্রার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মাত্রাও ছিলো প্রবল। তাই প্রাদেশিক সরকারের শিল্প মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এবং তারপরেও এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। বৈষম্য কমাতে অর্থনৈতিক কমিশন গঠন করেছেন, অর্থনৈতিক কমিশনের প্রতিবেদনকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেয়ার পর ৬ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি আদায় করতে চেষ্টা করেছেন। এজন্য বারবার জেলে যেতে হলেও তিনি আপোষ করেননি।

এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর সুতীব্র আকাক্সক্ষা এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে অনিহা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।স্বাধীন দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা সম্পর্কে ড. আতিউর বলেন যে, বঙ্গবন্ধু দেশের সকল মানুষের কাছে শিল্পায়ন ও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে ছিলেন বদ্ধ পরিকর। যথাযথভাবেই তিনি কৃষি ও শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে দেশেল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো।

প্রাথমিকভাবে সঙ্গত কারণে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে শিল্পায়ন অব্যাহত রাখলেও, উদ্যোক্তাবান্ধব বঙ্গবন্ধু অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যক্তি খাতের বিকাশের জন্য প্রয়োজনিয় উদ্যোগ নিতে শুরু করেছিলেন। অপশক্তি ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেও তনি রয়েছেন আমাদের নি:শ^াসে প্রশ^াসে। বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের পর তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের পথে ফিরেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি এক অসাধারণ উন্নয়ন অভিযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে তিনি রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here