বাংলাদেশের সামষ্টিক-অর্থনৈতিক রূপান্তর সত্যিই অনুসরণীয়ঃ ড. আতিউর রহমান

0


Published : ১৯.০১.২০১৯ ০৯:০৫ পূর্বাহ্ণ BdST

“বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, একই সঙ্গে বেশি প্রবৃদ্ধি ও বেশি সাম্য, অন্তত ভোগের ক্ষেত্রে বেশি সাম্য অর্জন করা খুবই সম্ভব। তবে আয়ের সাম্য আনার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবুও এ কথা মানতেই হবে যে, সামাজিক পিরামিডের পাটাতনে থাকা প্রান্তিক মানুষকে উঠিয়ে আনার জন্য বিশেষ মনযোগ এবং রাষ্ট্রিয় ও ব্যক্তি খাতের পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করাসহ বিভিন্ন অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির কারণেই বাংলাদেশ এই সাফল্য পেয়েছে।”- বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের  অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত পাবলিক লেকচারে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাহ নেওয়াজের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষকসহ বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ড. আতিউর বলেন যে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসনের মতো সামষ্টিক-অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়া ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির বাস্তবায়নের ফলে অধিকাংশ সামাজিক সূচকেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষি মজুরি বৃদ্ধি, নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাসকরণ, কৃষিতে মজুরি-উৎপাদনশীলতা অনুপাত বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণেই এ সাফল্য এসেছে। ড. আতিউরের মতে আগামী কয়েক দশকেও দেশের গার্মেন্ট রপ্তানি প্রসারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপক বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। কারখানায় কর্ম পরিবেশের উন্নয়ন ও সবুজায়নের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের বাজারে আরও বেশি মাত্রায় প্রবেশ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন: ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি দেশের ভেতরেও ভোক্তা চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৩৩টি শহরের প্রতিটিতে ৩ লাখের বেশি মধ্য ও উচ্চ আয়ের মানুষ বসবাস করবেন। বর্তমানের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারা নিরবিচ্ছিন্ন রাখা গেলে ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশে^র ২৪-তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। গার্মেন্ট খাতের মতো আইসিটি খাতও বাংলাদেশের জন্য বিশাল রপ্তানি আয়ের উৎস হতে পারে বলে মনে করেন ড. আতিউর।

ইতিবাচক সামষ্টিক-অর্থনৈতিক রূপান্তর অব্যাহত রাখতে সুশাসন ও সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ড. আতিউর। তিনি আরও বলেন যে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সকল মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমে দেশের তরুণ জনশক্তির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সব শেষে তিনি আর্থিক নীতিতে যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়াতে আহ্বান জানান যাতে করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার যথেষ্ট আয় করতে সক্ষম হয়। চলমান উন্নয়নের অভিযাত্রার গতি ধরে রাখতে এর কোন বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here