বাংলাদেশ ইনসটিটিউট অফ প্ল্যানার্স চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের অভিষেক অনুষ্ঠিত

0


Published : ০৩.০২.২০১৯ ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ BdST

বাংলাদেশ ইনসটিটিউট অফ প্ল্যানার্স চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের উদ্যোগে গতকাল আইইবি সম্মেলন কক্ষে চ্যাপ্টারের নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদ জিয়া হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইনসটিটিউট প্ল্যানার্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. এ কে এম আবুল কালাম।


চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এবং বিগত কমিটির বিদায়ী চেয়ারম্যান ও সাদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পরিকল্পনাবিদ আলী আশরাফের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সভার কাজ শুরু হয়। এ পর্যায়ে সভায় নতুন কমিটিকে পরিচিত করানো হয়।

সভার শুরুতে শাহীনুল ইসলাম খান ২০৫০ সালের চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বরূপ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্টে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। প্রধান অতিথির ভাষণে জনাব জিয়া হোসাইন বলেন, পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন ছোট হলেও ভবিষ্যতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অনেক কাজের সুযোগ। চট্টগ্রামের মত একটা দ্রুত বর্ধনশীল নগরীর সঠিক বিকাশের জন্য নগর পরিকল্পনা একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ যেখানে পরিকল্পনাবিদরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। সরকারের গ্রামকে শহরের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলার কর্মসূচীকে সাফল্যমন্ডিত করার ক্ষেত্রে পকিল্পনাবিদেরাই অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। পরিকল্পনাবিদদের ভবিষ্যত দ্রষ্টা হিসেবে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. এ কে এম আবুল কালাম বলেন, নগরের বাস্তব প্রয়োজনেই পরিকল্পনাবিদদের সংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। সুন্দর নগর সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিকল্পনাবিদদের ভুমিকা অপরিসীম।

ঢাকার পরে চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রাজশাহীতেও পরিকল্পনাবিদদের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পরিকলাপনাবিদেরা তাদের স্ব স্ব ভুমিকা পালন করতে পারলে বাংলাদেশে আর কোথাও অপরিকল্পিত শহর আর তৈরি হবেনা।

সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন বলেন, ১৯৬১ সালে সিডিএ’র অধীনে প্রথম মাস্টার প্ল্যান করার পর বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকবার মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়। কিন্তু মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে না পারার কারণে এসব মাস্টার প্ল্যানের সঠিক বাস্তবায়ন হয়না। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সিডিএ গণপরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রোরেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। নগরের সুষ্ঠ পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য এটি খুবই আশার কথা। তবে নগরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু করার আগে মেট্রোরেলের জরীপ কাজ সমাধা করা প্রয়োজন। অন্যথায় মেট্রোরেলের পরিপূর্ণ ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে জরীপ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনসটিটিউট চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান নাজমুল লতিফ সোহাইল, চুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ড. আসিফুল হক এবং বাংলাদেশ ইনসটিটিউট অফ প্ল্যানার্স কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহম্মদ খান।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here