বিএনপির শীর্ষ নেতা কে? জানতে চাইবে ইসি

0


Published : ২০.১১.২০১৮ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ BdST

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বাতিল করে। পরে এই সংশোধিত গঠনতন্ত্রই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হয়। অনেকটা অগোচরেই গঠনতন্ত্রে এই সংশোধনের লক্ষ্যই ছিল দুর্নীতি দায়ে দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দুর্নীতি ও হত্যা-চেষ্টার দায়ে দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে বহাল রাখা।


বিএনপির গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারায় ‘কমিটির সদস্যপদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা ছিল, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্যপদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তাঁরা হলেন: (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮-এর বলে দি ত ব্যক্তি। (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।’

এদিকে, বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্ট এই নির্দেশনা জারি করে। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন কেন অবৈধ নয় এর ব্যাখ্যা ইসির কাছে চেয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে এসে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সচিব এম হেলালউদ্দিন বাংলা কাগজকে বলেছেন, এই রায়ে যেহেতু আমরা কোনো প্রতিপক্ষ না এবং রায় যেহেতু নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো ভাবে সাংঘর্ষিক নয়, তাই নির্বাচন কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ কারণে ইসি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোনো আপিল করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিকে আজকালের মধ্যেই একটি চিঠি দেওয়া হবে। যে চিঠিতে বলা হবে, যেহেতু বিএনপির ৭ ধারা বাদ দেওয়া সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণযোগ্য নয়, সেহেতু দলটি তাদের নেতৃত্ব থেকে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিতদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বের তালিকা যেন তাদের কাছে অতিসত্বর পাঠায়। ইসি সূত্র আরও জানিয়েছে, বিএনপির নতুন নেতৃত্বের তালিকা নির্বাচন কমিশনের পাঠানো না হলে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালার শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আরপিও ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়া থেকে বিরত ও নিবন্ধন বাতিল করতে পারে ইসি। কিন্তু, ইসির এই দুটি আইনে এমন কোনো বিধান নেই, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো গঠনতন্ত্রে কোনো ধারা রাখবে কি রাখবে না, তা নির্ধারণ করতে পারে। এছাড়া কোনো দলের গঠনতন্ত্র গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়েও ইসির সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই বলে মত আইনজ্ঞদের।

এদিকে, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বিএনপি। কোনো নিবন্ধিত দল থেকে কোনো একটি আসনে প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর দল বা জোট থেকে কোনো একজন প্রার্থীকে প্রতীক দিলে ওই আসনের অন্য বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল থাকবে কি না, তা জানতে চেয়ে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এই চিঠি জমা দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মনোনয়নপত্র ফরমের সংযুক্তি-২-এ এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নাই। এতে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক মনোনয়ন ও চূড়ান্ত মনোনয়ন কীভাবে দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করার অনুরোধ করা হয়। ২০ দলীয় জোট বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জোট বা দল বা ঐক্যফ্রন্ট কী প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন করবে, তা জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে। এতে আরো বলা হয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বা ২০ দলীয় জোটের প্রত্যেক নিবন্ধিত দল একটি আসনে এক বা একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিতে পারে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত মনোনয়নের সময় ফ্রন্টের বা জোটভুক্ত কোনো দলের একজন প্রার্থীকে ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জোট বা ফ্রন্টের অন্য বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল থাকবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here