বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অভিনব কৌশল!

0


Published : ২০.১১.২০১৮ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ BdST

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। জানা গেছে, হাতি-ঘোড়া দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নেতারা মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও এখনই কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিচ্ছে না দল দুটি। বরং দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার পর যাতে দলের অন্য কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে করতে না পারেন, সে জন্য নেওয়া হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে দল দুটি অভিনব কৌশল নিয়েছে।


আওয়ামী লীগের সূত্রে জানা গেছে, যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর নিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। এর ফলে যে কোনো একজন চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে অন্যদের প্রার্থিতা বাতিলে নির্বাচন কমিশনে নেতাদের স্বাক্ষরসহ ফরম জমা দেওয়া হবে। এতে চূড়ান্ত মনোয়ন পাওয়া প্রার্থী ছাড়া অন্যদের প্রার্থিতা বাতিল হবে। ফলে দলের কেউ বিদ্রোহী হিসেবে ভোটে লড়তে পারবেন না। এভাবে এবার নিজ দলের বিদ্রোহী ঠিকাতে কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিও বিদ্রোহী ঠেকাতে এবার বিকল্প কৌশল নিয়েছে। দলটি এরই মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগ থেকে দলের মনোনয়ন যারা কিনেছেন তাদের সাক্ষাৎ নিয়েছে। আজ ও কাল নেওয়া হবে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সাক্ষাতকার। জানা গেছে, সাক্ষাতে নেতাদের প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনি এলাকায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক মনোনয়নে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির হাইকমান্ডের একটি সূত্র বলছে, প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর সব নেতাই নিজ নির্বাচনি এলাকায় কাজ করবেন। কিন্তু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের দিন দুয়েক আগে একটি আসন থেকে দল বা জোটের যে কোনো একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। এর ফলে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া একজন ছাড়া অন্যদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলা কাগজকে বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় এবার একটি ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন হবে। তাই দলীয় বা জোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কৌশলের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এর বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাড়ালে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে সারাজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। ফলে এবার বার্তাটি একেবারে পরিষ্কার যে, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে দলের কৌশল সম্পর্কে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটা দলের সময়োপযোগী স্ট্র্যাটেজী। দলের সকল মনোনয়নপ্রত্যাশী হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর দিয়েছেন। এখানে কাউকে জোরাজুরি করা হয়নি। সবাই বলেছেন, দল থেকে যাকে সমর্থন দেওয়া হবে, তার পক্ষে সবাই কাজ করবে। ফলে এটা নিয়ে দলের কোনো নেতার আপত্তি থাকার কথা না।

অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ঠিকাতে দলের কৌশল সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলা কাগজকে বলেন, এবার অনেক নেতা মনোনয়নপত্র তুলেছেন। এটা আমাদের আশাতীত ছিল। কিন্তু আমরা এতে খুশি। এর ফলে প্রমাণিত হলো যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মানুষের মনে অনেক তৃষ্ণা আছে। দলের অনেক নেতা-ই নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ নিতে চান। তাদের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু সবাই তো আর চূড়ান্ত মনোয়ন পাবেন না। তাই এখন প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। এরপর সঠিক সময়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু এর ফলে দলে চাপা ক্ষোভ তৈরি হবে কী না?-এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, না, এমনটা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কারন, দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাথে কথা বলছেন। সবাই বলছেন, এই নির্বাচন আমাদের তথা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য বাঁচা মড়ার লড়াই। তাই তারাও বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না। বরং দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষে অর্থাৎ ধানের শীষে পক্ষে কাজ করবে।

অবশ্য বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই কৌশল নিয়ে দুই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ আছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা পরিচয় প্রকাশ না করে শর্তে জানান, দল সমর্থন না করলেও তাদের কেউ কেউ এবার নির্বাচন করতে আগে থেকেই বদ্ধপরিকর ছিলেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ এলাকার মানুষকে তারা এমন কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের কৌশলে আটকা পড়ে তারা নির্বাচনে লড়াইয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন পর্যবেক্ষক, জানিপপের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বাংলা কাগজকে বলেন, যদি নির্বাচন কমিশনের আরপিওর কোনো ধারা দুই দলের কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তবে তারা যে কোনো কৌশল নিতে পারে। তিনি বলেন, পরিবর্তিত আরপিওর বিধান অনুযায়ী দুই দল যে কৌশল নিয়েছে তা সাংঘর্ষিক বলা যাবে না। এটা তাদের নিজ নিজ দলীয় বিষয়।

উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের সমর্থন পাওয়ায় আশায় এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৪ হাজার ১’শ ১২ জন প্রার্থী এবং বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫ হাজার ৮’শ ৩০ জন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here