বিদ্রোহ ঠেকানোই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ

0


Published : ০৯.১২.২০১৮ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ণ BdST

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পরপরই দলের নেতাদের একাংশের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থী ঘোষণার রাতেই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিদ্রোহ দেখান বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু। আর রাত পোহানোর পরই গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলনের অনুসারীরা বিক্ষোভের পর কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন।


রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়নবঞ্চিত সেলিমুজ্জামান সেলিম। আর ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল করেন নেতা-কর্মীরা। রংপুর-৩ আসনে পিপলস পার্টির রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে রিটা রহমানসহ বিএনপির মহাসচিবকে রংপুরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

অবশ্য বিদ্রোহীদের বিক্ষোভকে খুব একটা পাত্তা দেননি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। এই দলের হয়ে নির্বাচন করার জন্য সারা দেশে হাজারো নেতা উন্মুখ হয়ে থাকেন। কিন্তু সবাইকে তো আর চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া যায় না। দল যাকে দেয়, নিশ্চয়ই দলীয়ভাবে বিবেচনা করে দেয়। এ নিয়ে ছোট-খাটো বিক্ষোভ হতেই পারে বলে বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়ই দলের নীতি নির্ধারকরা চিন্তা-ভাবনা করছেন।

অন্যদিকে বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বিএনপির অনেক আলোচিত নেতাও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও তার ছেলে মনজুরুল করিম রনী, সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক এমপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি ও সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন, সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু প্রমুখ।

এদিকে মনোনয়ন না পেয়ে গত শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন অনেক নেতাকর্মী। এ সময় কেউ কেউ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গালিগালাজ করেন। অনেক বিক্ষুব্ধ কর্মী কার্যালয়ের ফটকে ইট-পাটকেল পর্যন্ত ছোড়েন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী সাহিদা রফিককেও কুমিল্লা-৩ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সাবেক মহিলা এমপি রাশেদা বেগম হীরা (চাঁদপুর-১), নিলুফার চৌধুরী মনি (জামালপুর সদর) আসনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। ২০০৮ সালে তারা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি ছিলেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বামপন্থি নেতা আতাউর রহমান ঢালী ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে।

ঢাকা-২০ আসনে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান এবার মনোনয়ন পাননি। তার জায়গায় মনোনয়ন পেয়েছেন ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন। নেত্রকোনা সদর আসনে আশরাফ উদ্দিন খান মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকায় নেই। তার স্থলে জায়গা পেয়েছেন জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ার হোসেন। প্রয়াত মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে আফরোজা খান রীতা মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। যদিও তার আসনটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। খুলনা- ৪ আসনে ২০০৮ সালে দলের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ এবার মনোনয়ন পাননি। ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। যিনি ২০০৮ সালে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। মনোনয়ন পাননি ২০০৮ সালের সংসদে নির্বাচিত মেহেরপুর-২ আসনের আমজাদ হোসেন।

গতকাল মনোনয়ন বঞ্চিত এহসানুল হক মিলনের সমর্থকরা বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত মিলনকে মনোনয়ন না দেয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। এর আগে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে তাদের ক্ষোভের কথা জানান সমর্থকরা। ওই আসনে মিলনের পরিবর্তে মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। চাঁদপুর-১ আসনে এহছানুল হক মিলনের নাম না থাকায় তার সমর্থকরা রাতেই গুলশান বিএনপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। জানা গেছে, ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেনকে।

মিলনের সমর্থকরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এলাকায় রাজনীতি করি। কিন্তু মোশারফ হোসেন নামে কাউকে চিনি না। তাকে কীভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলো। তাকে যেমন এলাকার মানুষ চেনে না, তেমনি তিনিও এলাকার মানুষ চেনেন না। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

শেখ আব্দুল্লাহকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে গতকাল সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা ঝাড়ু হাতে নিয়ে মিছিল করেন ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সিরাজদিখান থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক হায়দার আলী, সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, লতব্দী ইউনিয়ন সভাপতি নূর হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here