রাইডার্সের রেকর্ডে উড়ে গেলো ভাইকিংস

0


Published : ২৬.০১.২০১৯ ০৮:৫২ পূর্বাহ্ণ BdST

ঘরের মাঠে চিটাগং ভাইকিংসের হতাশার রাত। ঢাকা-সিলেট কাঁপিয়ে ঘরের মাঠে এসে হারতে হলো উড়তে থাকা ভাইকিংসদের। এর আগে সাত ম্যাচের ছয় ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় এক নম্বরে থাকা ঢাকা ডায়নামাইটসকে টপকে গিয়েছিল মুশফিকুর রহিমের দল।


ঘরের মাঠে স্বাগতিকরা হতাশ করল ভাইকিংস সমর্থকদের। ম্যাচ শেষ হবার অনেক আগেই নব্বই শতাংশ দর্শকের গ্যালারি ত্যাগ তো তারই প্রমাণ!

স্বাগতিক দর্শকরা নিজেদের পারফরম্যান্সে হতাশ হলেও দেখেছে চোখ জুড়ানো দুটি শতকের ইনিংস। হোক সেটা বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের। নিজের দল না জিতলেও এক ম্যাচে দুটি শত রানের ইনিংস দেখার পর কারও আর টিকিটের পয়সার জন্য আফসোস হবার কথা না।

ঢাকার পর সিলেট আবার ঢাকা হয়ে বিপিএল এসেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। আজ শুক্রবার প্রথম দিনেই বড় স্কোর এসেছে দুই ম্যাচেই।

দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ১৮০ রান করে সিলেট সিক্সার্স। তাতে ৭৪ রানে হেরে যায় কিংসরা।

সন্ধ্যায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স।

ব্যাটিংয়ে নেমে রাইডার্স ওপেনার ক্রিস গেইল হতাশ করে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই। আবু জায়েদের বলে ব্যক্তিগত ২ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

এরপর বাকিটা ইতিহাস। মাত্র ৪৮ বলে ১১টি চার আর পাঁচটি ছয়ে হেলস করেন ১০০ রান। বরাবর শতক হাঁকিয়েই ফেরেন সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে।

হেলসের শতকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অর্ধশতক হাঁকানো রিলে রুশোও শতক তুলে নেন হেলসের বিদায়ের পর। এই দুজনের জুটি থেকে আসে ১৭৪ রান।

হেলস আর রুশোর দুই শতকে বিপিএল পায় নতুন রেকর্ড। একে তো প্রথমবারের মতো বিপিএলের এক ম্যাচে দুটি শতক, দ্বিতীয়ত ২০১৩ সালে তাদের বিপক্ষেই ঢাকা ডায়নামাইটসের করা দলীয় সর্বোচ্চ ২১৭ রান টপকে ২৩৯ রান তুলেন রংপুর রাইডার্স।

ভাইকিংসের হয়ে ২ উইকেট নেন আবু জায়েদ। ১টি করে উইকেট নেন রবিউল হক আর সিকান্দার রাজা।

রংপুরের দেয়া রেকর্ড রান তাড়া করার লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৮ রানে ভাঙে ভাইকিংসের ওপেনিং জুটি। ব্যক্তিগত ২০ রানের মাথায় মোহাম্মদ শাহাজাদকে ফেরান ফরহাদ রেজা।

এরপর দুই নম্বরে ব্যাট করতে আসা সিকান্দার রাজাকে ৩ রানে ফেরান রাইডার্স দলনেতা মাশরাফি মুর্তজা। চার নম্বরে ব্যাট করতে এসে ওপেনার ইয়াসির আলীর সঙ্গে ভাইকিংস অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম শুরু করেন দুর্দান্ত ইনিংস।

শফিউল ইসলামকে এক ওভারে হাঁকান তিন ছয়। শেষ পর্যন্ত ১১ বলে ২২ রান করে থামেন নাজমুল অপুর বলে।

মুশফিকের বিদায়ের পর নাজিবুল্লাহ জার্দানকে ১ রানে ফেরান শহিদুল ইসলাম। এরপর ১৪ রানে মোসাদ্দেক হোসেনকে ফেরান মাশরাফি। ভাইকিংসের হয়ে একাই লড়াই করে যাওয়া ইয়াসির আলীকেও ফেরান মাশরাফিইই।

৪৮ বলে ছয়টি চার আর তিন ছয়ে ৭৮ রানের মাথায় ডি ভিলিয়ার্সের কাছে ক্যাচ দেন এই ওপেনার।

ইয়াসিরের বিদায়ের পর বাকি ব্যাটসম্যানরা মিলে আর রংপুরের রেকর্ড রান টপকাতে পারেনি ভাইকিংসরা। ৭২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

রংপুরের হয়ে মাশরাফি নেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নেন ফরহাদ রেজা আর ১টি করে উইকেট নেন নাজমুল অপু আর শাহিদুল ইসলাম।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here