রোবটিক্স এবং বাংলাদেশ

0


Published : ২৩.০২.২০১৮ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ BdST


লিখেছেনঃ আতিকুর রাহমান, নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়


প্রযুক্তির  উন্নয়নের সাথে সাথে মানব জীবনের প্রতিটি স্তরে এখন ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে যাচ্ছে রোবটের ব্যবহার। মুসলিম বিজ্ঞানী আল জাযারির (1136–1206) প্রথম আটোমেটিক রোবট দিয়ে রোবটিক্সের যে শুরু হয়েছিল তার পূর্ণতা পায়  জার্মান ফ্রীড্রিসক কুফমান এর সৈনিক রোবট দিয়ে যা পদর্শন করা হয় ৩০ এপ্রিল ১৯৫০ সালে । প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে তা আজ মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মানব আকৃতির পাশাপাশি রোবটে যোগ হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অনেক পরে হলেও বাংলাদেশও গুরুত্ব দিচ্ছে রোবট ও রোবটিক্স শিক্ষার ওপর। রোবট নিয়ে বিশেষায়িত শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে ‘রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে আলাদা বিভাগ । সম্পতি ঢাকায় চালু হল রোবট রেস্টুরেন্ট । রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কমপিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমন্বিত রূপ। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই তিনটি বিষয়ে আলাদাভাবে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ থাকলেও কেবল রোবটিক্সের ওপর কোন আলাদা বিভাগ বা কোর্স ছিল না।

২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম চালু করে ‘রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে বিভাগ। অনেক পরে হলেও রোবটিক্সে আছে বাংলাদেশের অনেক সফলতা । মাত্র ৩ হাজার টাকায়ে বাঙালী রোবট তৈরি করে ২০১৩ সালে সাড়া জাগায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী- সাদলী সালাহউদ্দিন ও সৌমিন ইসলামের এই রোবটকে বাংলায় ‘ডানে যেতে’ বললে সেটি ডানে যেতে পারে।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোব সাস্ট এর ১১ জন্য সদস্য মিলে নওশাদ সজিবের নেতৃত্বে তৈরী করেন প্রথম সামাজিক রোবট যা বাংলা বুঝে এবং কথা বলতে পারে ।

বাংলা বলা রোবটেই থেমে নেই বাংলাদেশের রোবট গবেষণা। বাংলার আকাশে সফলভাবে মনুষ্যবিহীন ড্রোন উড়াতে সক্ষম হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) চার শিক্ষার্থী।তিন ফুট লম্বা এই বিমান তৈরি করেছেন সৈয়দ রেজওয়ানুল হক, রবি কর্মকার, মারুফ হোসেন ও সৈয়দ উমর ফারুক । শুধু আকাশ নয়, পানির নিচে চলাচল উপযোগী রোবট নিয়েও গবেষণা হচ্ছে বাংলাদেশে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি) চার শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন রোবট সাবমেরিন। এই রোবট ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হবে।

রোবট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতায়ও হাজির হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালের শুরুতে ভারতের বাণিজ্য নগর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোবটিক্স চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ‘রানার আপ’ হয় বাংলাদেশের নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি প্রকল্প। আর গত বছর নাসার লুনাবোটিক্স মাইনিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া পঞ্চাশটি দেশের মধ্যে ছিল বাংলাদেশও।

এভাবে রোবট গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবট ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাকারী ছাত্র সংগঠন ‘এ্যাসরো’ তৈরি করছে উদ্ধারকারী সিরিজ রোবট। রোবটটির কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, এ রোবটটি ঘরে আগুন লাগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করবে এবং সতর্ক সঙ্কেত দেবে। বাংলাদেশে মূলত ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মেনিপুলেটর বা রোবটিক আর্ম হিসেবে ক্রেন ও এই ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেজন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট নিয়ে গবেষণার সুযোগই বেশি।

এখনও পর্যন্ত সরকারী পর্যায়ে রোবট নিয়ে গবেষণার ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে বেসরকারীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রোবট গবেষণা চলছে। সরকারের উচিত বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এসব খাতে বেশী বেশী  বিনিয়োগ করা ।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here