শুধু ভোটের জন্য নীতিহীন কাউকে দলে নেওয়া যাবে না : শেখ হাসিনা

0


Published : ২৮.১১.২০১৮ ০৮:২৮ পূর্বাহ্ণ BdST

নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে নীতিহীন ছোটাছুটি, এই জোট থেকে ওই জোটে যাওয়ার মোচ্ছব শুরু হয়েছে তখনই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নীতিহীন কাউকে শুধু ভোটের জন্য দলে নেওয়া যাবে না।


তিনি দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনের কৌশল ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে বৈঠককালে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ভাড়া করা লোক দিয়ে আওয়ামী লীগ চালানোর কিংবা নমিনেশনের দরকার নেই। আমরা যে উন্নয়ন কাজ করেছি, যে ভালো কাজ করেছি জনগণ যদি তাতে সন্তুষ্ট হয় তাহলে জনগণ নিশ্চয়ই আমাদের ভোট দেবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের বলেছেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে যে নীতিহীন রাজনীতির সূচনা হয়েছিল, এসব সুবিধাবাদী রাজনীতি তারই ফল। সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি, নীতিহীন আদর্শহীন ‘অতিথি পাখি’ দের দলে জায়গা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দলেই অনেক ভালো প্রার্থী রয়েছে। অন্য দল থেকে ভাড়া করা প্রার্থী নেওয়ার কোনো মানে হয় না। এটা রাজনীতি না।’

এর আগে বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দল ত্যাগ করে গোলাম মাওলা রনি ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গণফোরামে যোগদানের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো হলো বাংলাদেশে আদর্শহীন রাজনীতি, পরগাছার রাজনীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আওয়ামী লীগ এ ধরনের রাজনীতি করবে না। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতি করবে। এখানে গতকালই বিএনপি করেছিল কিন্তু আজকে শুধু মনোনয়নের জন্য তাঁকে আওয়ামী লীগে নিয়ে এসে নৌকা মার্কার প্রতীক তুলে দিতে হবে এমন রাজনীতির দরকার নেই। জনগণ যদি আমাদের পছন্দ করে তাহলে আমরা দেশ চালানোর দায়িত্ব পাবো , জনগণ যদি আমাদের পছন্দ না করে তাহলেও আমরা দুঃখিত নই।’ বৈঠকে যারা উদ্বাস্তু, যারা শুধু মনোনয়নের লোভে দলে আসবে তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে প্রধানমন্ত্রী দলের সিনিয়র নেতাদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামাত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। এবারও জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন, শমসের মোবিনসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি তাদের দলে নেননি। ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরও প্রয়াত এম কে আনোয়ার এবং কেরামত আলী আওয়ামী লীগে যোগ দিতে এসে প্রত্যাখ্যাত হন।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here