সুলতান-মোকাব্বিরকে নিয়ে চাপের মুখে ড. কামাল

0


Published : ০৫.০৩.২০১৯ ০৪:৪২ অপরাহ্ণ BdST

গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত গণফোরামের দুই সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খানের শপথগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে  চাপের মুখে পড়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।


জানা গেছে, খোদ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারাই তাকে চাপ দিচ্ছেন, যাতে ওই দুই নেতাকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে তাদের যেন শপথগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, সেজন্যে স্পিকার বরাবর একটি আবেদনপত্র দিতেও ড. কামালকে পরামর্শ দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এ ছাড়া খোদ গণফোরামের ভেতরেও ওই দুই নেতাকে যতদ্রুত সম্ভব বহিষ্কার করার জন্য ড. কামালের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে বিএনপির ছয়জন সাংসদ শপথ না নিলেও আগামী ৭ মার্চ সুলতান মনসুর এবং মোকাব্বির খানের শপথগ্রহণের কথা রয়েছে। গণফোরাম এবং ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এই দুই নেতা শপথ নিতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। জানতে চাইলে বাংলা কাগজকে তিনি বলেন, তারা যদি শপথ গ্রহণ করে তাহলে এটা জাতির সঙ্গে বেঈমানি হবে। আর এভাবে শপথগ্রহণ করলে তাদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণফোরামের দুই নেতার শপথের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলা কাগজকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই দুই প্রার্থী বিএনপির কেউ না। তাদের শপথ নেয়ার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি। আমরা অফিসিয়ালি কিছু জানি না। শপথ নেয়ার ব্যাপারটি পত্রিকায় দেখছি। আর যদি শপথ নেয় বলছেন, আসলে যদি বলে তো কিছু নেই। শপথ নিলে নেবে। তারা গণফোরামের সদস্য। ইতিমধ্যে গণফোরাম বলেছে- শপথ নিলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা কাগজকে বলেন, যেহেতু আমরা এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছি, অতএব বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা কেউ সংসদে যাবে না এটা আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল। এখন ঐক্যফ্রন্টের দুইজন সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত এখনো না যাওয়ার পক্ষে। এটা নিয়ে আমাদের আর কোনো মতামত নেই। যেহেতু তারা গণফোরামের প্রার্থী তাই গণফোরামই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, শপথ নিলে ঐক্যফ্রন্ট কি করবে সেটা বড় বিষয় না। ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তাদের দল। দল বহিষ্কার করলে আইন অনুযায়ী তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু এখন তো কত কিছুই হচ্ছে। বেআইনি বিষয় আইনি হয়ে যাচ্ছে। আবার আইনি বিষয় বেআইনি হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা কাগজকে মোকাব্বির খান বলেন, আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন প্রথমে সংসদে যাওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। আমাদেরকে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। এলাকার লোকজন যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তারা চান আমি যেন সংসদে গিয়ে আমার নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। তাই আগামী ৭ তারিখ শপথ নেওয়ার জন্য স্পিকার বরাবর আবেদন করেছি। সেটি মঞ্জুরও হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদেরকে বহিষ্কার করার জন্য দলের একটি অংশ ড. কামালকে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস, কামাল স্যার তাদের কথা শুনবেন না। আর চাপের মুখে বহিস্কার করলেও তা কার্যকর হবে না। সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে সেটি কোনো বাধা হবে না বলে আইনবিদরা বলেছেন। ফলে দলের সিদ্ধান্ত বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মোটেও বিচলিত নই।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here