সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই কল্যাণমুখী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাঃ ড. আতিউর রহমান

0


Published : ২৫.১১.২০১৮ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ BdST

“২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬-তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি অর্থনীতির একটি হবে। আমাদের সামনে রয়েছে সোনালী ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে কল্যাণমুখী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।”- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট ভবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে ‘বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন অভিযাত্রা ও আগামীর পথ-নকশা’ শিরোনামে মূল নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়েল ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এবং ট্রেজারার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।ড. আতিউর বলেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে প্রবৃদ্ধি এবং বৈষম্য হ্রাসকরণ একই সঙ্গে সম্ভব। এবং এটা বোঝা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্য কমানোর এই ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন যে, সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের পাশাপাশি ব্যাপকভিত্তিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে সাফল্যের পেছনে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। জাতীয় সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে বেসরকারি খাতের বিশেষ গরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে বলে মনে করেন ড. আতিউর এবং এক্ষেত্রে সরকারের কাজ হবে বেসরকারি খাতের বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি তরুণ শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য যথাযথ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং তরুণদের সাথে শিল্প খাতের সংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষিত তরুণ ও শিল্প খাতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি করতে পারে।

তরুণ উদ্যোক্তা বিশেষত এসএমই খাতে যুক্ত তরুণদের সহায়তা করার জন্য সরকার সুপরিকল্পিত গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল গঠন করতে পারে। এই তহবিল উদ্ভাবন ও উদ্যোগ বিষয়ক গবেষণাগার পরিচালনায় ব্যয় করা যেতে পারে। প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ উৎসাহিতকরণ এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।সব শেষে, ড. আতিউর বলেন যে, সবাইকে বর্তমান সরকার গত এক দশক ধরে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অভিযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকে মনযোগ দিতে হবে। তাহলেই সামাজিক পিরামিডের পাটাতনে থাকা প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা যাবে।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here