স্বপ্নচারী তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্ধারক শক্তি: ড. আতিউর রহমান

0


Published : ০৭.১২.২০১৮ ০৫:৪২ পূর্বাহ্ণ BdST

“বাংলাদেশ তারুণ্যের প্রতীক। স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে রাজনৈতিক সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বিস্ময়কর উন্নয়ন অভিযাত্রা- সর্বত্র তরুণরাই এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই স্বপ্নচারী তরুণরাই মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা অনুযায়ি আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নির্ধারক শক্তি হবে।”- বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।


ঢাকায় গ্রীন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশে তরুণদের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোলাম সামদানি ফকিরও এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ড. আতিউর বলেন যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিন্তায় ও মননে ছিলেন তরুণ। আর তাই স্বাধীন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই তিনি দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে উদ্যোগি হয়েছিলেন। নিয়েছিলেন শিক্ষাসহ নানামাত্রিক যুব-বান্ধব নীতি। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ও আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও বিগত এক দশকে যুব-বান্ধব নীতি-কৌশল গ্রহণ করেছে এবং তার বাস্তবায়নকে দিয়েছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের চলমান প্রক্রিয়ায় দেশের তরুণরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। আইসিটিভিত্তিক উদ্যোগের ব্যাপক প্রসার এ কথা প্রমাণ করে। দেশব্যাপি ডিজিটাইজেশনের ফলে তরুণরা এক দিকে নিজেরা উদ্যোক্তা হতে পারছে, অন্য দিকে অন্য তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রেরণায় উৎসাহিত হয়ে তরুণরা এখন নানা ধরণের মানবিক উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন এই তরুণাই মাত্র এক টাকায় পথশিশুদের খাবার খাওয়াচ্ছে এবং তাদের জন্য অসংখ্য স্কুল পরিচালনা করছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ড. আতিউর। তিনি বলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোকে এই তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে যুব-বান্ধব নীতি-প্রস্তাবনা হাজির করতে হবে, নিশ্চয়তা দিতে হবে কর্মসংস্থানের এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পরিবেশের। তিনি মনে করেন, এ দেশের তরুণরা প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক আর তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিবে। নিশ্চয়ই তারা স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের চলমান উদ্যোক্তা-বান্ধব উন্নয়ন অভিযাত্রাকে অক্ষুন্ন রাখার পক্ষেই থাকবে।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here