আত্মনির্ভরশীলতাই বড় চ্যালেঞ্জ

0


Published : ০২.০৩.২০১৯ ১২:৩০ অপরাহ্ণ BdST

এস এম আরিফুজ্জামান


আত্মনির্ভরশীলতা (self-dependency) এবং পরনির্ভরশীলতা একে অন্যের বিপরীত। একটা যতটা বেশী হবে অন্যটা ঠিক ততটাই কম হবে। যদি কেউ  অতিমাত্রায় অন্যের উপর নির্ভর করে তবে তার নিজের উপর নির্ভরতা অবশ্যই কম হবে।

আমাদের দেশে বাচ্চাদেরকে বড় করার সময়ে এত বেশী পরনির্ভর করে গড়ে তোলা হয় যে তাদের নিজেদের উপর কনফিডেন্স একেবারেই থাকেনা। খেয়াল করে দেখুন বাবা মা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বাচ্চা কোন বিষয়ের উপর পড়াশোনা করবে। শিক্ষকেরা নিয়ন্ত্রন করছেন পরীক্ষায় কি লিখবে। চাকরি পাবার পরে বস বলে কিভাবে কাজ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে কর্মচারীদের শুধু বলে দেয়া হচ্ছেনা কি কি কাজ করতে হবে, এটাও বলে দিতে হচ্ছে কিভাবে কাজটা করতে হবে। এভাবেই বছরের পর বছর আমরা পরনির্ভরশীল শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করছি।

এই পরনির্ভরশীলতার একটা খারাপ দিক হচ্ছে আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর স্বপ্নের সীমানাটা আরেকজন নির্ধারণ করে দিচ্ছে। ফলে বড় স্বপ্ন দেখা বা দেখার যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ আজ আর দেখতে পাচ্ছিনা। একবার ভাবুনতো স্টিভ জবস, বিল গেটস, জাকারবার্গদের মত স্বপ্নবাজ তরুনেরা না থাকলে আজ আমরা অসাধারণ কত প্রডাক্ট এবং সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হতাম।

আজকে আমাদের দেশের একটা তরুনের সর্বোচ্চ স্বপ্ন হচ্ছে ক্যারিয়ার সায়াহ্নে এসে বহুজাতিক কোম্পানির এদেশের সাবসিডিয়ারির সিইও হওয়া অথবা ১০০ কোটি টাকার একটা ব্যবসার মালিক হওয়া। আর একই সময়ে আমেরিকার একটা তরুন স্বপ্ন দেখছে ইনোভেটিভ কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস এনে বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি গড়ে তোলার।

আমাদের দেশকে সত্যিকার অর্থে উন্নত করতে হলে আমাদের বাচ্চাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে আর মহৎ উদ্যোক্তাদের জীবনী তাদের সামনে রাখতে হবে। প্রক্রিয়াটি খুবই দীর্ঘমেয়াদী, সূতরাং ধৈর্য্য ধরে কাজ করে যেতে হবে।


লেখকঃ এসোসিয়েট প্রফেসর ও বিভাগীয়  প্রধান, স্কুল অব বিজনেস, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here