বেরোবিতে আমগাছ নিধন! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়

0


Published : ০২.০৩.২০১৯ ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ BdST

এইচ. এম নুর আলম, রংপুর ব্যুরো চীফঃ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসনের কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই রসায়ন বিভাগে শিক্ষক মো: তরিকুল ইসলামের একক নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আমগাছ কাটা হয়েছে।


শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরির পেছনে লাগানো আমগাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে দিয়ে কাটান তিনি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদের সাথে ওই বাক-বিতন্ডাও হয় কিছুক্ষণ। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো: তরিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরির পেছনে একটি ফলের বাগান লাগানোর উদ্দেশ্যে দুটি আমগাছ কাটার জন্য এক কর্মচারীকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী কর্মচারী আমগাছ দুটি কাটেন। গাছ কাটা হলে ড. তুহিন ওয়াদুদ ঘটনাস্থলে এসে নিজের মাথা কর্মচারীর কোদালের নিকট এগিয়ে দিয়ে গাছ কাটার বদলে তার মাথা কাটতে বলেন।

ঘটনার পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেন,-‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বৃক্ষ নিধন। দেখার কেউ নেই। দীর্ঘ কয়েক বছরে অন্যের কাছে অনুরোধ করে গাছ নিয়ে এসে নিজের সময় শ্রম অর্থ ব্যয় করে ক্যাম্পাসে ৩৩ হাজার গাছ লাগিয়েছি। কয়েকদিন ধরে চলছে সেই গাছ কাটা। আমার বুক ভেসে কান্না আসছে। আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে বলে স্যার আপনার ৩৩ হাজার ১ টি সন্তান৷ আজ মনে হচ্ছে গাছগুলোকে আমি সন্তানের মতোই ভালোবাসি। হে দেশবাসী, প্রকৃতিপ্রেমিক গাছগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসো।’
পোস্টটির কমেন্ট বক্সে শিক্ষক তরিকুল ইসলাম কয়েকটি বিষয়ে কমেন্ট করেন। তিনি লিখেন, ‘ছবিটি জুম কওে দেখুন সবাই। নাকি পরিষ্কার রাখাও আমার কোনো অধিকার নেই। আমার জানালার পাশে অন্য যে কেউ যা কিছু করার অধিকার রাখে, কিন্তু আমার তা পরিষ্কার করার অধিকার নেই?’ তবে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে পোস্টটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গাছগুলো আমাদের সম্পদ। গাছগুলোতে মুকুল আসার উপক্রম হয়েছে। এই সমযে এসে গাছগুলো কিভাবে কাটা যায় আমার বুঝে আসে না। ফলের বাগান লাগানোর জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেক জায়গা আছে। এরকম একটি আমগাছ কেটে তো ফলের বাগান লাগানোর কোন দরকার হয়না।’

ঘটনাস্থলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘এরকম করে গাছগুলো কাটা ঠিক হয়নি।’

জানতে চাইলে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডরমেটরির পেছনে একটি ফলের বাগান লাগানোর জন্য গাছগুলো কাটার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি তুহিন ভাই (ড. তুহিন ওয়াদুদ) এত কষ্ট পাবেন।’
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০ প্রজাতির প্রায় ৩৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ। কয়েকজনের সহযোগীতায় গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য :

Please enter your comment!
Please enter your name here